ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তের মুখে বাংলাদেশ: ‘অতি উৎপাদন’ ও ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যু

উৎপাদন খাতে ‘অতিরিক্ত সক্ষমতা’ বা ‘অতি উৎপাদন’ এবং পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশের ওপর তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তদন্তের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশসহ ষোলোটি দেশের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত উৎপাদন’ সংক্রান্ত তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার তারা বাংলাদেশসহ মোট ষাটটি দেশের পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বন্ধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আরেকটি তদন্তের কথা জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিয়েসন গ্রির উল্লেখ করেছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে যেসব দেশ ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুতে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা পরীক্ষা করে দেখবেন যে এসব দেশ ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহার করে তৈরি পণ্য বিক্রি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন ব্যবসার ক্ষতি করছে কি না।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেগুলোর মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে চায় তারা।

এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামও রয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরপরই দেশটি এসব তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর কাছে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি দেশকে আগামী ১৭ই মার্চের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এই বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তদন্তে কী দেখবে যুক্তরাষ্ট্র: পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দিয়ে ইউএসটিআর বৃহস্পতিবার বলেছে, পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রমের’ ব্যবহার থাকলে সেই পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কেমন, সেটি এই তদন্তে দেখা হবে। একই সঙ্গে দেখা হবে যে, এসব বিষয়ে দেশগুলোর নীতি বা চর্চা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রভাব ফেলছে কি না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াবের নতুন সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কমিটি

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তের মুখে বাংলাদেশ: ‘অতি উৎপাদন’ ও ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যু

আপডেট সময় : ১১:১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

উৎপাদন খাতে ‘অতিরিক্ত সক্ষমতা’ বা ‘অতি উৎপাদন’ এবং পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশের ওপর তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তদন্তের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশসহ ষোলোটি দেশের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত উৎপাদন’ সংক্রান্ত তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার তারা বাংলাদেশসহ মোট ষাটটি দেশের পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বন্ধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আরেকটি তদন্তের কথা জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিয়েসন গ্রির উল্লেখ করেছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে যেসব দেশ ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুতে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা পরীক্ষা করে দেখবেন যে এসব দেশ ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহার করে তৈরি পণ্য বিক্রি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন ব্যবসার ক্ষতি করছে কি না।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেগুলোর মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে চায় তারা।

এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামও রয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরপরই দেশটি এসব তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর কাছে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি দেশকে আগামী ১৭ই মার্চের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এই বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তদন্তে কী দেখবে যুক্তরাষ্ট্র: পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দিয়ে ইউএসটিআর বৃহস্পতিবার বলেছে, পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রমের’ ব্যবহার থাকলে সেই পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কেমন, সেটি এই তদন্তে দেখা হবে। একই সঙ্গে দেখা হবে যে, এসব বিষয়ে দেশগুলোর নীতি বা চর্চা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রভাব ফেলছে কি না।