৩২ বছর পর গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে যাচ্ছে, আর ৪৪ বছর পর লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবে এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞ। কিন্তু ঘরের মাটিতে হতে যাওয়া ২০২৮ সালের এই বৈশ্বিক ইভেন্টে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিশ্ব অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা) যুক্তরাষ্ট্রে বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করায় এমন পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে।
ওয়াডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া চাঁদার পরিমাণ ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। এই বকেয়া পরিশোধ না করায় ট্রাম্পসহ মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আগামী অলিম্পিক ও বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টে নিষিদ্ধ হতে পারেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে চিন্তাভাবনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, রাশিয়ার ডোপ কেলেঙ্কারি এবং সম্প্রতি চীনের ২৩ জন সাঁতারুর ইতিবাচক ডোপ টেস্টের ফল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে ওয়াডা। এর প্রতিবাদেই মার্কিন প্রশাসন চাঁদা পরিশোধ করছে না। ওয়াডার নিয়ম অনুযায়ী, চাঁদা বকেয়া থাকলে কোনো দেশ সংস্থার কমিটিতে থাকতে পারে না। এই কারণে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ওয়াডার কার্যনির্বাহী কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পদটি শূন্য বা স্থগিত হয়ে গেছে।
ওয়াডার কার্যনির্বাহী কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি নীতিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলেছে। মঙ্গলবার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই নিয়ম পাসের জন্য পুনরায় উত্থাপন করা হচ্ছে। এই সংশোধনী পাস হলে, ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রাষ্ট্রীয়ভাবে ইভেন্টটিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপেও এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, এই নিয়মটি অতীতের কোনো ইভেন্টে প্রযোজ্য না হলেও, পাস হলে তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) বা ফিফা এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ওয়াডার মুখপাত্র জেমস ফিটজেরাল্ড বলেছেন, এটি কোনো নতুন খবর নয় এবং সুনির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে এই নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
রিপোর্টারের নাম 























