বাংলাদেশে প্রস্তাবিত ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ (পিডিপিও) প্রণয়নকালে বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্ট মেটার ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের বয়সের সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কেন অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ডেটা লোকালাইজেশন এবং ব্যক্তিগত উপাত্তের আন্তঃসীমান্ত স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলোতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সরকার আইনটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এনেছে।
২০২৬ সালের সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো এবং সরকারি গোপনীয় তথ্য ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রে ‘সিনক্রোনাস লোকাল ব্যাকআপ’-এর বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া করপোরেট অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করে কেবল জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ অন্তত পাঁচবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শিশুদের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে আনার জন্য দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিশুর বয়স নির্ধারণের বিষয়টি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত হলেও মেটার এই অনড় অবস্থানের কারণ এখনো অস্পষ্ট।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়নের মধ্যে। মেটার নিজস্ব নীতিমালায় ১৩ বছরের নিচে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ না থাকলেও ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরাই তাদের অন্যতম প্রধান ব্যবহারকারী গোষ্ঠী। তরুণ জনতাত্ত্বিক এই বিশাল জনগোষ্ঠীর তথ্য নিয়ন্ত্রণ বা বিপণন কৌশলের কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য এই চাপের নেপথ্যে আছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
রিপোর্টারের নাম 

























