ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা: রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সার্বভৌমত্বকে বারবার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এবং নাগরিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত গণবিস্ফোরণ। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনকে অনেকে ‘দ্বিতীয় মুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও নাগরিক মর্যাদাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

বিগত দেড় দশকের শাসনামলে উন্নয়নের আড়ালে সুশাসন ও মানবাধিকারের চরম সংকট তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের ফলে জনআস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। ২০২৪-এর আন্দোলন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, অধিকারহীন উন্নয়ন বা বৈধতাহীন স্থিতিশীলতা কখনোই টেকসই হতে পারে না। বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করা। ইতিহাসের শিক্ষা হলো—জনতার রক্তে ভেজা এই অর্জনকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করলে তার পরিণাম কখনোই শুভ হয় না।

একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। আজ রাজনৈতিক দলগুলো যদি মুক্ত পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তবে তা কোনো বিশেষ মহলের দয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের ত্যাগের ফসল। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থে পুনর্গঠন করাই এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন নাগরিকদের প্রবল অনীহা: নতুন জরিপ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা: রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ১০:১১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সার্বভৌমত্বকে বারবার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এবং নাগরিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত গণবিস্ফোরণ। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনকে অনেকে ‘দ্বিতীয় মুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও নাগরিক মর্যাদাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

বিগত দেড় দশকের শাসনামলে উন্নয়নের আড়ালে সুশাসন ও মানবাধিকারের চরম সংকট তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের ফলে জনআস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। ২০২৪-এর আন্দোলন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, অধিকারহীন উন্নয়ন বা বৈধতাহীন স্থিতিশীলতা কখনোই টেকসই হতে পারে না। বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করা। ইতিহাসের শিক্ষা হলো—জনতার রক্তে ভেজা এই অর্জনকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করলে তার পরিণাম কখনোই শুভ হয় না।

একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। আজ রাজনৈতিক দলগুলো যদি মুক্ত পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তবে তা কোনো বিশেষ মহলের দয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের ত্যাগের ফসল। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থে পুনর্গঠন করাই এখন সময়ের দাবি।