ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়ায় গিয়ে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েছেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ যুবক। সেখানে মাফিয়াদের হাতে জিম্মি হয়ে তারা বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। মাফিয়াদের অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারকে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছেন তারা।
ভুক্তভোগী যুবকদের অভিভাবকেরা জানিয়েছেন, লিবিয়া থেকে মাফিয়া চক্র ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের যুবকদের ওপর চালানো নির্যাতন ও মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে। প্রতিটি যুবকের জন্য ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে, যা পরে আলোচনার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলার নাজিমনগর গ্রামের দিলোয়ারা বেগম, তার ছেলে হুমায়ুন এবং জামাতা নজরুল ইসলাম মিলে এই ১৩ যুবককে লিবিয়ায় পাঠান। ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর মৌখিক চুক্তি করলেও, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর যুবকেরা মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এরপর থেকে এই দালাল চক্রের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
জিম্মি যুবকদের মধ্যে একজন, নাজিমনগর গ্রামের হামজা তার মায়ের কাছে ভিডিও কলে কাতরভাবে বলেছেন, ‘মা আমাকে বাঁচাও, বাবা আমাকে বাঁচাও। টাকা না দিলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে! জায়গা-জমি, ঘরবাড়ি বিক্রি করে হলেও আমাকে বাঁচাও।’
জিম্মি হওয়া অন্য যুবকদের মধ্যে রয়েছেন নিলয় মিয়া, শফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, ইয়াছিন মিয়া, জীবন মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, আতাউর রহমান, মনিরুল ইসলাম, মামুন মিয়া, এনামূল হক, আতাউর রহমান, আবুল হামজা এবং আবুল কালাম। তাদের সবার বাড়ি জামালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন গ্রামে।
রিপোর্টারের নাম 

























