ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মানবতার বিভাজন: সংকীর্ণতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে বিশ্ববিবেক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

উপমহাদেশের এক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানবতার অসহায় রূপ দেখে ব্যথিত হয়েছিলেন। মানুষের মধ্যে বিভাজন, সংকীর্ণতা এবং স্বার্থের সংঘাত তাকে পীড়িত করেছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যেখানে বিশ্বমানবতা যেন খণ্ডিত হয়ে পড়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় মানবতার প্রতি আমাদের আচরণ প্রায়শই শর্তসাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বিচার করে শোক প্রকাশ বা সহমর্মিতা জ্ঞাপন করি। এই মানবিকতার বাছবিচার আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট। যখন একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে অন্য দেশ তুলে নিয়ে যায়, বা কোনো দেশের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়, তখন বিশ্ববিবেক প্রায়শই নীরব থাকে। এমনকি ইরানে স্কুলছাত্রী মেয়েদের মৃত্যুর মতো ঘটনাও বিশ্বজুড়ে তেমন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি, যা তথাকথিত মানবদরদি গোষ্ঠীগুলোর নীরবতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

আমাদের মূল সমস্যা হলো, আমরা প্রায়শই সমস্যার মূলে যেতে ব্যর্থ হই। মানবিকতার প্রশ্নে আমরা নীতির পরিবর্তে অবস্থানভিত্তিক বিচার করি, যার ফলে ন্যায়বোধের পরিবর্তে দ্বিচারিতা আমাদের আচরণে প্রাধান্য পায়। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের মন্তব্য এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, যেখানে তিনি শক্তিধর দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডারের বিপরীতে অন্য দেশের সম্ভাব্য শক্তিকে হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করেছিলেন।

শক্তিধররা নিজেদের শক্তিকে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং অন্যের সম্ভাব্য শক্তিকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে। মানবতার এই খণ্ডিত রূপই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি, যেখানে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবিকতা আর সর্বজনীন নয়, বরং তা পক্ষ, পরিচয় এবং স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ার মতো দেশগুলোতে লাখ লাখ নারী ও শিশুর দুর্ভোগ এই বিভাজনেরই প্রতিফলন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

মানবতার বিভাজন: সংকীর্ণতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বে বিশ্ববিবেক

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

উপমহাদেশের এক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানবতার অসহায় রূপ দেখে ব্যথিত হয়েছিলেন। মানুষের মধ্যে বিভাজন, সংকীর্ণতা এবং স্বার্থের সংঘাত তাকে পীড়িত করেছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যেখানে বিশ্বমানবতা যেন খণ্ডিত হয়ে পড়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় মানবতার প্রতি আমাদের আচরণ প্রায়শই শর্তসাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বিচার করে শোক প্রকাশ বা সহমর্মিতা জ্ঞাপন করি। এই মানবিকতার বাছবিচার আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট। যখন একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে অন্য দেশ তুলে নিয়ে যায়, বা কোনো দেশের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়, তখন বিশ্ববিবেক প্রায়শই নীরব থাকে। এমনকি ইরানে স্কুলছাত্রী মেয়েদের মৃত্যুর মতো ঘটনাও বিশ্বজুড়ে তেমন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি, যা তথাকথিত মানবদরদি গোষ্ঠীগুলোর নীরবতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

আমাদের মূল সমস্যা হলো, আমরা প্রায়শই সমস্যার মূলে যেতে ব্যর্থ হই। মানবিকতার প্রশ্নে আমরা নীতির পরিবর্তে অবস্থানভিত্তিক বিচার করি, যার ফলে ন্যায়বোধের পরিবর্তে দ্বিচারিতা আমাদের আচরণে প্রাধান্য পায়। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের মন্তব্য এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, যেখানে তিনি শক্তিধর দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডারের বিপরীতে অন্য দেশের সম্ভাব্য শক্তিকে হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করেছিলেন।

শক্তিধররা নিজেদের শক্তিকে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং অন্যের সম্ভাব্য শক্তিকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে। মানবতার এই খণ্ডিত রূপই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি, যেখানে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবিকতা আর সর্বজনীন নয়, বরং তা পক্ষ, পরিচয় এবং স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ার মতো দেশগুলোতে লাখ লাখ নারী ও শিশুর দুর্ভোগ এই বিভাজনেরই প্রতিফলন।