রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, নতুন নেতৃত্ব আসে এবং নতুন নীতি নির্ধারিত হয়। তবে, একটি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের একটি অংশে, আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ১৮ মাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বহু আমলার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। সেই সময় তাঁদের সহযোগিতা, সৌজন্য ও আনুগত্য স্পষ্ট ছিল। কিন্তু গত মাসে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সেই সম্পর্কের চিত্রটি হঠাৎ করেই বদলে গেছে।
ক্ষমতার করিডোরে একটি অদৃশ্য নিয়ম কাজ করে—ক্ষমতা যেখানে, আনুগত্যও অনেক সময় সেখানেই স্থানান্তরিত হয়। দায়িত্বে থাকাকালে যেসব কর্মকর্তা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, পরামর্শ চাইতেন বা বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ দেখাতেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তাঁদের অনেকেই যেন হঠাৎ করে দূরে সরে গেছেন। নতুন কর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের ব্যস্ততায় পুরোনো সম্পর্কগুলো যেন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
এটি কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোর একটি পুরোনো সমস্যা। আমলাতন্ত্রের একটি অংশ মনে করে, তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো ক্ষমতাসীন ব্যক্তির সন্তুষ্টি অর্জন করা। এর ফলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ একটি শক্তিশালী ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন এমন একটি পেশাদার আমলাতন্ত্র, যারা ব্যক্তি নয়, বরং নীতি ও রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমরা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে একটি সেবামুখী ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করেছিলাম। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা—এসব ক্ষেত্রে আমরা নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সে সময় অনেক কর্মকর্তা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন, এটি অস্বীকার করা যাবে না। তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য, প্রশাসনের একটি অংশের আচরণে ক্ষমতাকেন্দ্রিক মনোভাব স্পষ্ট ছিল।
ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে আচরণের এই দ্রুত পরিবর্তন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়: আমরা কি সত্যিই একটি পেশাদার ও নীতিনিষ্ঠ প্রশাসন গড়ে তুলতে পেরেছি? নাকি এখনো ব্যক্তিনির্ভর আনুগত্যের সংস্কৃতিই প্রশাসনের একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করছে?
রিপোর্টারের নাম 

























