ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সংসদকে অপবিত্র করেছেন: জুলাই ঐক্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতি সংসদকে অপবিত্র করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের গুলিতে ১৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সেই হাসিনা সরকারের নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) ভাষণ দিয়ে জনতার সংসদকে অপবিত্র করছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এই রাষ্ট্রপতি বারবার শপথ ভঙ্গ করেছেন। যে সংসদে শহিদদের রক্ত মাড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বসেছে, সেই সংসদে হাসিনার নিয়োগকৃত গণহত্যাকারী কোনো রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে পারে না।’

গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা ১১০টি সংগঠনের মোর্চা জুলাই ঐক্য মনে করে, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সরকারি দল বিএনপি প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং শহিদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ২০০৬ সাল থেকে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে গুম-খুনের শিকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আত্মদান এবং রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি। সরকারি দল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বারবার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণের জন্য দাওয়াত করা হলেও বিএনপি জুলাইয়ের শপথ গ্রহণ না করে সরাসরি জুলাইয়ের স্পিরিটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সাধারণ ছাত্র-জনতা আশা করেছিল, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে নতুন স্পিকারের হাতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবে বিএনপি। কিন্তু শপথ গ্রহণ না করে উল্টো ফ্যাসিবাদের ধারক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে দিয়ে ভাষণ দেওয়ানো হয়েছে।

বিএনপির প্রতি জুলাই ঐক্যের স্পষ্ট বার্তা হলো— ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ। যে জুলাই না হলে তারেক রহমানসহ তার পরিবারকে প্রবাসে থাকতে হতো, সালাহউদ্দিন আহমেদকে শিলংয়ে থাকতে হতো, এবং শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হাসিনার আয়নাঘরে থাকতে হতো। সেই জুলাইকে অস্বীকার করলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। নতুন সরকারের এই বিষয়টি মনে রাখা উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খামারে মুরগির দাম কমলেও বাজারে উর্ধ্বগতি, খামারিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

রাষ্ট্রপতি সংসদকে অপবিত্র করেছেন: জুলাই ঐক্য

আপডেট সময় : ১১:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতি সংসদকে অপবিত্র করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের গুলিতে ১৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সেই হাসিনা সরকারের নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) ভাষণ দিয়ে জনতার সংসদকে অপবিত্র করছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এই রাষ্ট্রপতি বারবার শপথ ভঙ্গ করেছেন। যে সংসদে শহিদদের রক্ত মাড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বসেছে, সেই সংসদে হাসিনার নিয়োগকৃত গণহত্যাকারী কোনো রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে পারে না।’

গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা ১১০টি সংগঠনের মোর্চা জুলাই ঐক্য মনে করে, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সরকারি দল বিএনপি প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং শহিদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ২০০৬ সাল থেকে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে গুম-খুনের শিকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আত্মদান এবং রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি। সরকারি দল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বারবার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণের জন্য দাওয়াত করা হলেও বিএনপি জুলাইয়ের শপথ গ্রহণ না করে সরাসরি জুলাইয়ের স্পিরিটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সাধারণ ছাত্র-জনতা আশা করেছিল, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে নতুন স্পিকারের হাতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবে বিএনপি। কিন্তু শপথ গ্রহণ না করে উল্টো ফ্যাসিবাদের ধারক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে দিয়ে ভাষণ দেওয়ানো হয়েছে।

বিএনপির প্রতি জুলাই ঐক্যের স্পষ্ট বার্তা হলো— ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ। যে জুলাই না হলে তারেক রহমানসহ তার পরিবারকে প্রবাসে থাকতে হতো, সালাহউদ্দিন আহমেদকে শিলংয়ে থাকতে হতো, এবং শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হাসিনার আয়নাঘরে থাকতে হতো। সেই জুলাইকে অস্বীকার করলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। নতুন সরকারের এই বিষয়টি মনে রাখা উচিত।