দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সংস্থাটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিদ্যমান সকল ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ও অ্যাডহক কমিটি একযোগে বাতিল ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে, তৃণমূলের খেলাধুলাকে সচল, সুসংগঠিত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি স্তরে সাত সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেছে।
গত মঙ্গলবার এনএসসির নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. দৌলতুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অতীতে জারি করা সকল নির্দেশনা এখন থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে।
এনএসসির নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ের সাত সদস্যের কমিটির সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন থানার অফিসার ইনচার্জ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং একজন স্থানীয় ক্রীড়াবিদ। স্থানীয় কোনো ক্রীড়া সংগঠক অথবা একজন ক্রীড়াবিদ সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি হবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। এই কমিটিতে পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক, জেলা ক্রীড়া অফিসার এবং একজন স্থানীয় ক্রীড়াবিদ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির সভাপতি হবেন বিভাগীয় কমিশনার।
নতুন নির্দেশনায় কমিটি গঠনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে ক্রীড়া পরিষদ। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে তাদের অ্যাডহক কমিটির প্রস্তাব সাত দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রস্তাব দশ দিনের মধ্যে বিশেষ বাহকের মাধ্যমে সরাসরি এনএসসিতে পাঠাতে হবে।
এই অ্যাডহক কমিটিগুলোর মূল দায়িত্ব হবে স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচিত কমিটির তালিকা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠানো। এর মাধ্যমে এনএসসি তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে সক্রিয় ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার আশা করছে। এদিকে, ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশ মনে করছেন, জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর ক্ষেত্রেও নির্বাচন পরিচালনার জন্য নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
রিপোর্টারের নাম 























