আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দিনাজপুরের কৃতি সন্তান নূর বানু কবীরকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত এই সম্মাননা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর হাতে তুলে দেন।
সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে নূর বানু কবীরকে এই বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। এর আগে তিনি রংপুর বিভাগীয় পর্যায়েও অদম্য নারী পুরস্কার লাভ করেছিলেন। দিনাজপুর পৌর শহরের বালুবাড়ী এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী ৮৬ বছর বয়সী নূর বানু কবীর অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার লালপুর গ্রামের মহিদুর রহমান চৌধুরী এবং আমিনা খাতুনের কন্যা। ১৯৫৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাঁর দশ সন্তানের জন্ম হয়।
নিজে মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও, নূর বানু কবীর তাঁর সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তোলার জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগের ফসল হিসেবে তাঁর দশ সন্তানের মধ্যে সাতজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বাকি তিনজনও উচ্চশিক্ষা লাভ করে নিজ নিজ কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তাঁর প্রথম সন্তান সুলতানা কবীর ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত ইন্সট্রাক্টর, তৃতীয় সন্তান সুফিয়া কবীর বিরলের মুন্সিপাড়া কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক। চতুর্থ সন্তান আবু সুফিয়ান কবির সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত আছেন। পঞ্চম সন্তান শাহান সাহা আজাদ কবির সরকারি চাকরির উপ-সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। সপ্তম সন্তান শাহানা কবীর সহকারী শিক্ষক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত। অষ্টম সন্তান সাদিয়া সুলতানা বর্তমানে দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। নবম সন্তান সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবীর পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আর কনিষ্ঠ সন্তান সোহেলী কবির ঢাকা বিমানবন্দর (ক্যান্টনমেন্ট) উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
এছাড়াও, নূর বানুর দ্বিতীয় সন্তান সুলতান আলী কবীর কৃষি কাজে নিয়োজিত আছেন এবং অপর সন্তান শাহিনা কবীর একজন গৃহিণী হিসেবে জীবনযাপন করছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























