মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর বেশ কিছু ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। সংস্থাটি মনে করে, বর্তমান আকারে এই আইনটি পাস হলে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবার আরও বেশি আইনি জটিলতা ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট, ২০২৬) অধিকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অভিযুক্ত বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত কখনোই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটি পক্ষপাতের জন্ম দেবে এবং শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘দায়মুক্তি’ দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।
বিবৃতিতে আইনের ২১ ধারা নিয়ে বিশেষ আপত্তি জানানো হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি তদন্তের ভিত্তিতে কোনো অভিযোগ আদালতে ‘মিথ্যা’ প্রমাণিত হয়, তবে অভিযোগকারীর ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। অধিকার মনে করে, এই কঠোর বিধান ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে আইনি প্রতিকার চাইতে নিরুৎসাহিত করবে এবং বিচারহীনতার পরিবেশকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে।
অধিকার উল্লেখ করেছে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের ঘটনায় পুলিশ জিডিও গ্রহণ করত না। এমনকি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও মিরাজ শেখ নামে এক ব্যক্তির গুমের ঘটনায় পুলিশ ‘গুম’ হিসেবে জিডি না নিয়ে পরিবারকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার অভিযোগ করতে বাধ্য করেছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ এই ধরনের ঘটনার তদন্তভার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত ছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর সেই অধ্যাদেশটি সংসদে উত্থাপন না করায় তা বাতিল হয়ে যায় এবং এখন এই নতুন ‘দুর্বল’ আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংস্থাটি দাবি করেছে, গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা পুলিশের হাতে না রেখে একটি স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অথবা গুম সংক্রান্ত একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করে তাঁদের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। জনস্বার্থে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনটি সংশোধন করে তবেই সংসদে পাস করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে অধিকার।
রিপোর্টারের নাম 




















