জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ অপরিবর্তিত রেখেই সংসদে পাস করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। নবনিযুক্ত কমিশনারবৃন্দের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ কমিশনকে মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত এখতিয়ার দিয়েছে। তাই এই অধ্যাদেশটি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আইনে পরিণত হওয়া উচিত। তিনি নারী, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কমিশনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার প্রদানে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মকৌশল প্রণয়নের পরামর্শ দেন।
সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কমিশন শিরদাঁড়া সোজা রেখে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত হওয়া উচিত এবং এর জন্য নবনির্বাচিত সরকারকে বর্তমান অধ্যাদেশ ও কমিশনারদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও তিনি ন্যায়পাল নিয়োগ ও বৈষম্য বিরোধী আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এএলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা অধ্যাদেশে কিছু ত্রুটি থাকলেও এটি অবিকৃতভাবে সংসদে পাস হওয়া উচিত বলে মত দেন এবং কমিশনকে সক্রিয় ও সচল দেখতে চাওয়ার কথা জানান।
কমিশনের চেয়ারপারসন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমান কমিশনারদের অতীতের কাজ, ব্যক্তিগত অবস্থান ও জনজীবনে তাদের ভূমিকা অন্তত এতটুকু প্রমাণ করে যে, আইন যতদূর অনুমতি দেবে, আমরা ততদূর পর্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং সাহসের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। মানবাধিকার রক্ষা প্রশ্নে আমরা নিষ্ক্রিয় থাকতে চাই না। আমরা সহায়ক হতে চাই, কার্যকর হতে চাই এবং মানুষের আস্থার জায়গা হতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি কার্যকর, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার কমিশন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ নয়। এটি একটি সমগ্র দেশের স্বার্থ, রাষ্ট্রের স্বার্থ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন। নতুন বাংলাদেশের এই নতুন সময়ে একটি শক্তিশালী আইন, স্বাধীন কাঠামো ও বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ অচিরেই ‘এ’ স্ট্যাটাস অর্জন করতে পারবে।’
রিপোর্টারের নাম 
























