ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

রমজানে দুস্থদের জন্য মাস্তুল মেহমানখানার বিনামূল্যে সেহরি-ইফতারের আয়োজন

অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পবিত্র রমজান মাসজুড়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেহরি ও ইফতারের আয়োজন করেছে মাস্তুল মেহমানখানা। সারা বছর ধরে সাধারণ খাবারের পাশাপাশি রমজানে এই কার্যক্রম সেহরি ও ইফতারে রূপান্তরিত হয়েছে।

মানবসেবার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমানের হাত ধরে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নিজের টিউশনের টাকা বাঁচিয়ে পথশিশুদের পড়ানোর মধ্য দিয়ে তার এই মানবিক উদ্যোগের সূচনা হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় দাতব্য সংস্থার টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন এবং তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে দেশের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন। ২০১২ সালে একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে কাজী রিয়াজ রহমান এই মানবিক উদ্যোগ শুরু করেন। ছোট একটি উদ্যোগ থেকে শুরু হয়ে আজ এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাতেও যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রশংসিত হয়েছে।

তাদের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মাস্তুল স্কুল, মাদ্রাসা ও এতিমখানা, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, আবাসন, পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এছাড়াও যাকাতভিত্তিক মাস্তুল স্বাবলম্বী প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে রিকশা, সেলাই মেশিন বা ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দিয়ে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানবিক সেবার অংশ হিসেবে মাস্তুল বৃদ্ধাশ্রম ও শেল্টারহোমে আশ্রয়হীন প্রবীণদের আবাসন ও চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হয়।

এদিকে, অসহায় মানুষের জন্য স্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করতে মাস্তুল ফাউন্ডেশন একটি ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ইসলামিক শেল্টার হোম কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করছে। এই কমপ্লেক্সে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল ও বৃদ্ধাশ্রমের সমন্বয়ে একটি মানবিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, “মাস্তুল ফাউন্ডেশন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি অবহেলিত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চাইল ভারত

রমজানে দুস্থদের জন্য মাস্তুল মেহমানখানার বিনামূল্যে সেহরি-ইফতারের আয়োজন

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পবিত্র রমজান মাসজুড়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেহরি ও ইফতারের আয়োজন করেছে মাস্তুল মেহমানখানা। সারা বছর ধরে সাধারণ খাবারের পাশাপাশি রমজানে এই কার্যক্রম সেহরি ও ইফতারে রূপান্তরিত হয়েছে।

মানবসেবার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমানের হাত ধরে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নিজের টিউশনের টাকা বাঁচিয়ে পথশিশুদের পড়ানোর মধ্য দিয়ে তার এই মানবিক উদ্যোগের সূচনা হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় দাতব্য সংস্থার টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন এবং তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে দেশের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন। ২০১২ সালে একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে কাজী রিয়াজ রহমান এই মানবিক উদ্যোগ শুরু করেন। ছোট একটি উদ্যোগ থেকে শুরু হয়ে আজ এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাতেও যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রশংসিত হয়েছে।

তাদের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মাস্তুল স্কুল, মাদ্রাসা ও এতিমখানা, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, আবাসন, পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এছাড়াও যাকাতভিত্তিক মাস্তুল স্বাবলম্বী প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে রিকশা, সেলাই মেশিন বা ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দিয়ে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানবিক সেবার অংশ হিসেবে মাস্তুল বৃদ্ধাশ্রম ও শেল্টারহোমে আশ্রয়হীন প্রবীণদের আবাসন ও চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হয়।

এদিকে, অসহায় মানুষের জন্য স্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করতে মাস্তুল ফাউন্ডেশন একটি ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ইসলামিক শেল্টার হোম কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করছে। এই কমপ্লেক্সে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল ও বৃদ্ধাশ্রমের সমন্বয়ে একটি মানবিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, “মাস্তুল ফাউন্ডেশন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি অবহেলিত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।”