ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

ওসমান হাদি হত্যা: ভারতে গ্রেপ্তার মূল দুই আসামি

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান দুই আসামিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

রোববার (৮ মার্চ) ভোরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে আসেন। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁয় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এসটিএফ আরও জানায়, এই দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে তাদের কাছে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসটিএফ জানিয়েছে, এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রোববার আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হামলাকারীদের একজন হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদকে শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার তার গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

এর আগে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হামলার পেছনে কোনো আর্থিক যোগসাজশ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে এবং অর্থ স্থানান্তর বা গোপন করার সম্ভাবনা ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

হাদি হত্যা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগে লাখো প্রাণরক্ষা ও বিপুল অর্থনৈতিক সুফল: গবেষণায় প্রকাশ

ওসমান হাদি হত্যা: ভারতে গ্রেপ্তার মূল দুই আসামি

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান দুই আসামিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

রোববার (৮ মার্চ) ভোরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে আসেন। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁয় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এসটিএফ আরও জানায়, এই দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে তাদের কাছে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসটিএফ জানিয়েছে, এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রোববার আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হামলাকারীদের একজন হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদকে শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার তার গ্রেপ্তারের তথ্য দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

এর আগে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হামলার পেছনে কোনো আর্থিক যোগসাজশ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে এবং অর্থ স্থানান্তর বা গোপন করার সম্ভাবনা ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

হাদি হত্যা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।