তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দেওয়া রায় জালিয়াতি, হত্যা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা চারটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই আদেশ প্রদান করে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ অক্টোবর আরেকটি হাইকোর্ট বেঞ্চ হত্যা, রায় জালিয়াতি ও দুদকসহ মোট পাঁচটি মামলায় খায়রুল হককে কেন জামিন দেওয়া হবে না, এই মর্মে একটি রুল জারি করেছিল।
এর আগে, গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে খায়রুল হককে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গ্রেপ্তার করে। একই দিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই সময় জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়, যার ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ হয়ে যায়।
প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কয়েক দফা তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়।
গত বছরের ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন শাহবাগ থানায় দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরও আগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে খায়রুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























