ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবাকর্মীদের জন্য সরকার চালু করছে মাসিক সম্মানী ভাতা

দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, যাজক এবং অন্যান্য সেবাকর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের ৬ হাজার ৪৩৮টি মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জায় কর্মরতদের জন্য এই ভাতা কার্যক্রম শুরু করা হবে। রোববার সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে ৯৯০টি মন্দির, ৭২ উপজেলায় দুটি করে ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ১৯৮ উপজেলায় দুটি করে ৩৯৬টি গির্জা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাইলট পর্যায়ে মসজিদের ইমামকে মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমকে ২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে। একইভাবে, মন্দিরের পুরোহিতকে ৫ হাজার ও সেবাইতকে ৩ হাজার টাকা, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষকে ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষকে ৩ হাজার টাকা, এবং গির্জার যাজককে ৫ হাজার ও সহকারী যাজককে ৩ হাজার টাকা সম্মানী প্রদান করা হবে। এছাড়াও, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে পুরোহিত, সেবাইত, বিহার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।

চলতি অর্থবছরে এই সম্মানী প্রদানের জন্য প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে এবং আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে নির্বাচিত উপকারভোগীদের কাছে এই অর্থ পাঠানো হবে। পরবর্তীতে, দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জা অন্তর্ভুক্ত করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সরকার আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই বৃহত্তর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকতা শিক্ষার পথিকৃৎ অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান আর নেই

ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবাকর্মীদের জন্য সরকার চালু করছে মাসিক সম্মানী ভাতা

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, যাজক এবং অন্যান্য সেবাকর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের ৬ হাজার ৪৩৮টি মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জায় কর্মরতদের জন্য এই ভাতা কার্যক্রম শুরু করা হবে। রোববার সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে ৯৯০টি মন্দির, ৭২ উপজেলায় দুটি করে ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ১৯৮ উপজেলায় দুটি করে ৩৯৬টি গির্জা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাইলট পর্যায়ে মসজিদের ইমামকে মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমকে ২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে। একইভাবে, মন্দিরের পুরোহিতকে ৫ হাজার ও সেবাইতকে ৩ হাজার টাকা, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষকে ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষকে ৩ হাজার টাকা, এবং গির্জার যাজককে ৫ হাজার ও সহকারী যাজককে ৩ হাজার টাকা সম্মানী প্রদান করা হবে। এছাড়াও, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে পুরোহিত, সেবাইত, বিহার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।

চলতি অর্থবছরে এই সম্মানী প্রদানের জন্য প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে এবং আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে নির্বাচিত উপকারভোগীদের কাছে এই অর্থ পাঠানো হবে। পরবর্তীতে, দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জা অন্তর্ভুক্ত করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সরকার আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই বৃহত্তর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে জানানো হয়েছে।