ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরে লোমহর্ষক খুন: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় মাদ্রাসা ছাত্রকে পুড়িয়ে মারল ঘাতক

গাজীপুরে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে ঘাতক। এ ঘটনায় জড়িত ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মাদ্রাসা ছাত্রের নাম মাহবুব ইসলাম রনি (১৩)। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাগ মিয়ার ছেলে। গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর (পূর্বপাড়া) এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিল রনি। গ্রেফতারকৃত ঘাতক ছাব্বির আহমেদ (১৯) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিজতুলন্দর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই বিশ্বজিত বিশ্বাস জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় রনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় রনির মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। মরদেহটির মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত রনির দাদা তারা মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়, যার মধ্য দিয়ে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

গ্রেফতারকৃত ছাব্বিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সে ওই জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করছিল। সে সময় রনি তাকে গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি অন্যদের কাছে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ছাব্বির একাধিকবার অনুরোধ করে রনিকে নিষেধ করলেও সে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির পেছন থেকে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর ঘাড় মটকে এবং গলা চেপে ধরে রনিকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। হত্যার পর নিহতের লাশ ওই জঙ্গলের ভেতরেই আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে ছাব্বির ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

গাজীপুরে লোমহর্ষক খুন: গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় মাদ্রাসা ছাত্রকে পুড়িয়ে মারল ঘাতক

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে ঘাতক। এ ঘটনায় জড়িত ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মাদ্রাসা ছাত্রের নাম মাহবুব ইসলাম রনি (১৩)। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাগ মিয়ার ছেলে। গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর (পূর্বপাড়া) এলাকার খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিল রনি। গ্রেফতারকৃত ঘাতক ছাব্বির আহমেদ (১৯) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিজতুলন্দর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই বিশ্বজিত বিশ্বাস জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় রনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় রনির মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। মরদেহটির মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত রনির দাদা তারা মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী ছাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়, যার মধ্য দিয়ে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

গ্রেফতারকৃত ছাব্বিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সে ওই জঙ্গলে বসে গাঁজা সেবন করছিল। সে সময় রনি তাকে গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি অন্যদের কাছে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ছাব্বির একাধিকবার অনুরোধ করে রনিকে নিষেধ করলেও সে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির পেছন থেকে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর ঘাড় মটকে এবং গলা চেপে ধরে রনিকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। হত্যার পর নিহতের লাশ ওই জঙ্গলের ভেতরেই আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে ছাব্বির ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।