ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র: মার্কিন আধিপত্যের নতুন চ্যালেঞ্জ

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে যে ছক কষেছিল, তা আজ এক গভীর সংকটের মুখে। ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এমন এক সংঘাতের গভীরে টেনে এনেছে, যা তারা যেকোনো মূল্যে এড়াতে চেয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এখন সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান ব্যতিরেকেই ইরান-বিরোধী একটি আরব-ইসরায়েল জোট গঠনের স্বপ্ন দেখেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই কাঙ্ক্ষিত জোট যখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে, তখনই পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ।

গত তিন বছরে অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে আপস ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংঘাত তা রাতারাতি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। একসময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে সৌদি তেল শোধনাগারে ইরানের নিখুঁত হামলা এবং পরবর্তীতে আবুধাবিতে ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তারা বুঝতে পারে, সংকটের মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা তাদের অস্তিত্বের জন্য যথেষ্ট নয়। এর ফলস্বরূপ, ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা অনেকটাই কমিয়েছিল।

কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক হামলার পরিকল্পনা করছে, তখন ইরানও পিছু হটার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা যখন দেখলেন ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার কোনো সদিচ্ছাই দেখাচ্ছে না, তখন যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য হয়ে পড়ে। উপসাগরীয় দেশগুলো আশা করেছিল যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত হবে এবং ইরানে একটি বাস্তববাদী সামরিক নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু তেহরান সেই চিত্রনাট্য প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি প্রতিবেশীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

গণমাধ্যমে ইরানের হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন সহিংসতা’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চললেও, বিশ্লেষকরা বলছেন এটি একটি গভীর সুচিন্তিত কৌশল। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে মূল লক্ষ্য বানালেও কাতার, ওমান এমনকি সৌদি আরবও ইরানের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর মূল কেন্দ্রগুলিতে আঘাত হেনে ইরান তাদের জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা কতটা অরক্ষিত। স্থানীয় শপিং মল বা জনসমাগমস্থলে রাষ্ট্রপ্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মনে কতটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ইরানের এই রণকৌশলের মূল লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত আঘাত হেনে যুদ্ধবিরতির চাপ তৈরি করা। কোনো বিশেষ প্রচেষ্টা ছাড়াই কেবল হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। প্রত্যক্ষ হামলা ছাড়াই সৌদি তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দামের মুখে যুক্তরাষ্ট্রও আজ দিশাহারা। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, শাহেদ ড্রোন ও সস্তা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান পশ্চিমের ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। প্রাথমিক সফলতায় ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র উল্লাস করলেও, ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে গেলে আসল বিপর্যয় শুরু হবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি তাদের অগাধ আস্থা আজ প্রশ্নের মুখে। এই দেশগুলো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক আগ্রহ এবং স্বৈরাচারী নেতৃত্বের প্রতি মুগ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছে, তাদের টিকে থাকার জন্য জরুরি এমন এক যুদ্ধ শুরু করার আগে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে কোনো কার্যকর পরামর্শই করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার যে মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনা, তার ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া থেকে এই আরব দেশগুলো মুক্ত থাকতে পারবে না। একসময় নিরাপত্তার প্রতীক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের জন্য উল্টো বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দুবাই বা রিয়াদের মতো আধুনিক শহরগুলোর বাসিন্দারা ভাবতেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কেবল সিরিয়া, সুদান বা ইয়েমেনের মতো দেশগুলোর জন্য, তাদের জন্য নয়। কিন্তু ইরান সেই বিভ্রম ভেঙে দিয়েছে। ইরান যদি এই যুদ্ধে টিকে যায়, তবে তারা তাদের জবরদস্তিমূলক শক্তির কথা মনে রাখবে। আর যদি ইরানের পতন ঘটে, তবে শরণার্থী স্রোত, উগ্রবাদ আর অস্থিতিশীলতায় পুরো উপসাগর অস্থির থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের এই আক্রমণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। অস্তিত্বের সংকটে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এক কাতারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরব দেশগুলোকে আতঙ্কিত করছে। তারা ভাবছে, আজ ইরান হলে কাল হয়তো তাদেরই পালা। আর এই গভীর নিরাপত্তাহীনতাই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সাজানো সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান ৬৬০ সুন্নি ধর্মীয় নেতার

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র: মার্কিন আধিপত্যের নতুন চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৬:২০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে যে ছক কষেছিল, তা আজ এক গভীর সংকটের মুখে। ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এমন এক সংঘাতের গভীরে টেনে এনেছে, যা তারা যেকোনো মূল্যে এড়াতে চেয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এখন সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান ব্যতিরেকেই ইরান-বিরোধী একটি আরব-ইসরায়েল জোট গঠনের স্বপ্ন দেখেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই কাঙ্ক্ষিত জোট যখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে, তখনই পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ।

গত তিন বছরে অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে আপস ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংঘাত তা রাতারাতি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। একসময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে সৌদি তেল শোধনাগারে ইরানের নিখুঁত হামলা এবং পরবর্তীতে আবুধাবিতে ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তারা বুঝতে পারে, সংকটের মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা তাদের অস্তিত্বের জন্য যথেষ্ট নয়। এর ফলস্বরূপ, ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা অনেকটাই কমিয়েছিল।

কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক হামলার পরিকল্পনা করছে, তখন ইরানও পিছু হটার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা যখন দেখলেন ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার কোনো সদিচ্ছাই দেখাচ্ছে না, তখন যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য হয়ে পড়ে। উপসাগরীয় দেশগুলো আশা করেছিল যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত হবে এবং ইরানে একটি বাস্তববাদী সামরিক নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু তেহরান সেই চিত্রনাট্য প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি প্রতিবেশীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

গণমাধ্যমে ইরানের হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন সহিংসতা’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চললেও, বিশ্লেষকরা বলছেন এটি একটি গভীর সুচিন্তিত কৌশল। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে মূল লক্ষ্য বানালেও কাতার, ওমান এমনকি সৌদি আরবও ইরানের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর মূল কেন্দ্রগুলিতে আঘাত হেনে ইরান তাদের জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা কতটা অরক্ষিত। স্থানীয় শপিং মল বা জনসমাগমস্থলে রাষ্ট্রপ্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মনে কতটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ইরানের এই রণকৌশলের মূল লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত আঘাত হেনে যুদ্ধবিরতির চাপ তৈরি করা। কোনো বিশেষ প্রচেষ্টা ছাড়াই কেবল হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। প্রত্যক্ষ হামলা ছাড়াই সৌদি তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দামের মুখে যুক্তরাষ্ট্রও আজ দিশাহারা। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, শাহেদ ড্রোন ও সস্তা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান পশ্চিমের ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। প্রাথমিক সফলতায় ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র উল্লাস করলেও, ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে গেলে আসল বিপর্যয় শুরু হবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি তাদের অগাধ আস্থা আজ প্রশ্নের মুখে। এই দেশগুলো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক আগ্রহ এবং স্বৈরাচারী নেতৃত্বের প্রতি মুগ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছে, তাদের টিকে থাকার জন্য জরুরি এমন এক যুদ্ধ শুরু করার আগে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে কোনো কার্যকর পরামর্শই করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার যে মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনা, তার ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া থেকে এই আরব দেশগুলো মুক্ত থাকতে পারবে না। একসময় নিরাপত্তার প্রতীক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের জন্য উল্টো বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দুবাই বা রিয়াদের মতো আধুনিক শহরগুলোর বাসিন্দারা ভাবতেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কেবল সিরিয়া, সুদান বা ইয়েমেনের মতো দেশগুলোর জন্য, তাদের জন্য নয়। কিন্তু ইরান সেই বিভ্রম ভেঙে দিয়েছে। ইরান যদি এই যুদ্ধে টিকে যায়, তবে তারা তাদের জবরদস্তিমূলক শক্তির কথা মনে রাখবে। আর যদি ইরানের পতন ঘটে, তবে শরণার্থী স্রোত, উগ্রবাদ আর অস্থিতিশীলতায় পুরো উপসাগর অস্থির থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের এই আক্রমণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। অস্তিত্বের সংকটে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এক কাতারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরব দেশগুলোকে আতঙ্কিত করছে। তারা ভাবছে, আজ ইরান হলে কাল হয়তো তাদেরই পালা। আর এই গভীর নিরাপত্তাহীনতাই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সাজানো সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।