যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের স্থল অভিযান চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য ‘মহা বিপর্যয়’ ডেকে আনবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, মার্কিন বাহিনীর মোকাবিলায় তাঁর দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সঙ্গে যখন ইরানের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে, ঠিক তখনই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন দ্ব্যর্থহীন বার্তা এলো।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মার্কিন হামলা নিয়ে কোনো ভয় আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আরাঘচি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “না, আমরা তাদের (মার্কিন বাহিনী) জন্য অপেক্ষা করছি।” তিনি জানান, যেকোনো স্থল হামলা মোকাবিলা করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়েছে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান।
সংঘাত চরম আকার ধারণ করলেও ইরান এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি চায়নি বলে জানান আরাঘচি। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেবারও ইসরায়েলই যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল, ইরান নয়।” তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধে কোনো বিজয়ী নেই। আমাদের জয় হলো, আমরা প্রতিরোধ করতে পারছি।”
দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭১ জন স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন আরাঘচি। তিনি জানান, ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন, এই হামলা কেবল ওই দুটি দেশের পক্ষেই চালানো সম্ভব।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ওয়াশিংটন ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও একই কথা জানিয়ে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আব্বাস আরাঘচি জানান, বর্তমানে স্টিভ উইটকফ বা জ্যারেড কুশনারের মতো মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা কখনোই ইতিবাচক ছিল না এবং ওয়াশিংটন সরল বিশ্বাসে আলোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























