ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরায় প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছনার মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরায় একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও তার কক্ষের চেয়ার জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত এ কে এম আজহারুজ্জামান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে একদল বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন এ কে এম আজহারুজ্জামান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানকে তার কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পর তার চেয়ার জোরপূর্বক দখল করে নেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান ওই বছরের ১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মাছুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান এবং ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর আজহারুজ্জামানসহ মোট ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ পেয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, তিনি আজ বৃহস্পতিবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী মো. জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, জামিলুজ্জামান ২০০২ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন এবং বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান। অভিযুক্ত এ কে এম আজহারুজ্জামানও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মুজিদ জানান, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা এবং অবৈধভাবে চেয়ার দখলের বিষয়টি সিআইডি তদন্তে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সার্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই ইস্যুতে নিশ্চয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র

সাতক্ষীরায় প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছনার মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরায় একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও তার কক্ষের চেয়ার জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত এ কে এম আজহারুজ্জামান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে একদল বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন এ কে এম আজহারুজ্জামান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানকে তার কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পর তার চেয়ার জোরপূর্বক দখল করে নেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান ওই বছরের ১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মাছুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান এবং ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর আজহারুজ্জামানসহ মোট ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ পেয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, তিনি আজ বৃহস্পতিবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী মো. জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, জামিলুজ্জামান ২০০২ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন এবং বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান। অভিযুক্ত এ কে এম আজহারুজ্জামানও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মুজিদ জানান, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা এবং অবৈধভাবে চেয়ার দখলের বিষয়টি সিআইডি তদন্তে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সার্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।