ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরে সুজনের সহসভাপতিকে শ্বাসরোধে হত্যা, হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহসভাপতি কামরুজ্জামান মোল্লাকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সুজনের জেলা শাখার সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার ঠিকাদারি ব্যবসা ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে সদর মেট্রো থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৭টার দিকে কামরুজ্জামান মোল্লা নিজ বাসা থেকে গাজীপুর আদালতে একটি মামলাসংক্রান্ত কাজে যান। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় আদালতের কার্যক্রম হয়নি। পরে তিনি আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি। রাত গভীর হলেও না ফেরায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের লাশ উদ্ধারের খবর দেয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ১১টার আগের কোনও একসময়ে কামরুজ্জামান মোল্লাকে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা ধীরাশ্রম এলাকার একটি সড়কের পাশে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন লাশটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছোট ভাই কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ রাত ২টার দিকে লাশ উদ্ধারের কথা জানায়। আমার জানামতে কারও সঙ্গে ভাইয়ের কোনও বিরোধ ছিল না। যদি ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে শত্রুতা থেকে থাকেও, সে বিষয়ে আমরা জানি না। ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকালে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।’

সুজনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, ‘তিনি (কামরুজ্জামান মোল্লা) আমাদের সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’

সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকালে লাশ স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে সুজনের সহসভাপতিকে শ্বাসরোধে হত্যা, হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৮:২৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহসভাপতি কামরুজ্জামান মোল্লাকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সুজনের জেলা শাখার সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার ঠিকাদারি ব্যবসা ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে সদর মেট্রো থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৭টার দিকে কামরুজ্জামান মোল্লা নিজ বাসা থেকে গাজীপুর আদালতে একটি মামলাসংক্রান্ত কাজে যান। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় আদালতের কার্যক্রম হয়নি। পরে তিনি আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি। রাত গভীর হলেও না ফেরায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের লাশ উদ্ধারের খবর দেয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ১১টার আগের কোনও একসময়ে কামরুজ্জামান মোল্লাকে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা ধীরাশ্রম এলাকার একটি সড়কের পাশে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন লাশটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছোট ভাই কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ রাত ২টার দিকে লাশ উদ্ধারের কথা জানায়। আমার জানামতে কারও সঙ্গে ভাইয়ের কোনও বিরোধ ছিল না। যদি ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে শত্রুতা থেকে থাকেও, সে বিষয়ে আমরা জানি না। ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকালে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।’

সুজনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, ‘তিনি (কামরুজ্জামান মোল্লা) আমাদের সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’

সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকালে লাশ স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’