ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

ব্যাংকের এফডিআর ছেড়ে ট্রেজারি বিল-বন্ডে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ

দেশের সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের প্রধান ভরসা ব্যাংক আমানত, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) বা সঞ্চয়পত্র হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের নতুন মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরকারি সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বিল-বন্ড এবং ইসলামিক বিনিয়োগপণ্য সুকুক। তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, বাজারভিত্তিক মুনাফা এবং সরকারের প্রত্যক্ষ গ্যারান্টি থাকায় এসব বিনিয়োগে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষ করে যাদের হাতে অলস অর্থ রয়েছে কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে চান না অথবা সঞ্চয়পত্রের সীমাবদ্ধতার বাইরে বিকল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড ও সুকুক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও বাজারভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকার এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারে আনতে চায়। এ লক্ষ্যে বিল-বন্ড কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি সুকুক বিনিয়োগের জন্য নতুন নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড হলো সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বিভিন্ন মেয়াদের সরকারি ঋণপত্র। বাজেট ঘাটতি পূরণ বা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সরকার এগুলো ইস্যু করে থাকে। স্বল্পমেয়াদি ঋণপত্রকে বলা হয় ট্রেজারি বিল বা টি-বিল এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্রকে বলা হয় ট্রেজারি বন্ড বা বিজিটিবি।

ট্রেজারি বিল সাধারণত ৯১ দিন, ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিনের মেয়াদে ইস্যু করা হয়। এগুলো ডিসকাউন্ট মূল্যে বিক্রি করা হয় এবং মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী পূর্ণ মূল্য ফেরত পান। অর্থাৎ, কম দামে কিনে মেয়াদ শেষে বেশি মূল্য পাওয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী লাভবান হন। অন্যদিকে, ট্রেজারি বন্ডের মেয়াদ দুই বছর থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই বন্ডগুলোতে নির্দিষ্ট কুপন হারে সুদ প্রদান করা হয় এবং সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর সুদ পরিশোধ করা হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের গ্যারান্টি থাকায় ট্রেজারি বিল ও বন্ড দেশের অন্যতম নিরাপদ বিনিয়োগ পণ্য, যেখানে মূলধন হারানোর ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে।

সাধারণত অনেকেই মনে করেন ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেবল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য। কিন্তু বাস্তবে যেকোনো দেশের নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, ভবিষ্য তহবিল এবং ছোট উদ্যোক্তারাও সরকারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ ঢাকার আবহাওয়া: বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তাপমাত্রা বাড়তে পারে

ব্যাংকের এফডিআর ছেড়ে ট্রেজারি বিল-বন্ডে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:১৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

দেশের সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের প্রধান ভরসা ব্যাংক আমানত, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) বা সঞ্চয়পত্র হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের নতুন মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরকারি সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বিল-বন্ড এবং ইসলামিক বিনিয়োগপণ্য সুকুক। তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, বাজারভিত্তিক মুনাফা এবং সরকারের প্রত্যক্ষ গ্যারান্টি থাকায় এসব বিনিয়োগে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষ করে যাদের হাতে অলস অর্থ রয়েছে কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে চান না অথবা সঞ্চয়পত্রের সীমাবদ্ধতার বাইরে বিকল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড ও সুকুক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও বাজারভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকার এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারে আনতে চায়। এ লক্ষ্যে বিল-বন্ড কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি সুকুক বিনিয়োগের জন্য নতুন নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড হলো সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বিভিন্ন মেয়াদের সরকারি ঋণপত্র। বাজেট ঘাটতি পূরণ বা উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সরকার এগুলো ইস্যু করে থাকে। স্বল্পমেয়াদি ঋণপত্রকে বলা হয় ট্রেজারি বিল বা টি-বিল এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্রকে বলা হয় ট্রেজারি বন্ড বা বিজিটিবি।

ট্রেজারি বিল সাধারণত ৯১ দিন, ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিনের মেয়াদে ইস্যু করা হয়। এগুলো ডিসকাউন্ট মূল্যে বিক্রি করা হয় এবং মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী পূর্ণ মূল্য ফেরত পান। অর্থাৎ, কম দামে কিনে মেয়াদ শেষে বেশি মূল্য পাওয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী লাভবান হন। অন্যদিকে, ট্রেজারি বন্ডের মেয়াদ দুই বছর থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই বন্ডগুলোতে নির্দিষ্ট কুপন হারে সুদ প্রদান করা হয় এবং সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর সুদ পরিশোধ করা হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের গ্যারান্টি থাকায় ট্রেজারি বিল ও বন্ড দেশের অন্যতম নিরাপদ বিনিয়োগ পণ্য, যেখানে মূলধন হারানোর ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে।

সাধারণত অনেকেই মনে করেন ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেবল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য। কিন্তু বাস্তবে যেকোনো দেশের নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, ভবিষ্য তহবিল এবং ছোট উদ্যোক্তারাও সরকারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন।