ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

পে-স্কেল ২০২৫: ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে কর্মজীবীদের উদ্বেগ, বাজারে পড়বে নেতিবাচক প্রভাব

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা ‘জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫’-এর সুপারিশ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে সরকারের এই ‘কয়েক ধাপে বাস্তবায়ন’ পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, কয়েক ধাপে বেতন বাড়লে বাজারে বারবার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।

বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮। এছাড়া, ২০ হাজার টাকার কম পেনশনধারীদের ১০০ শতাংশ, ২০-৪০ হাজারের মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজারের বেশি পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ২,০০০ টাকা ভাতার সুপারিশও করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশাল অংকের আর্থিক চাপ কমাতে নতুন পে-স্কেলটি দুই বা তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনে উন্নয়ন বাজেট থেকে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সংস্থান করা হবে।

সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সুবিধাভোগীরা। তাদের মতে, এতে বারবার বাজারে প্রভাব পড়বে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সুবিধাভোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্ম: তুলির আঁচড়ে এক অনন্য সৃজনশীল জগৎ

পে-স্কেল ২০২৫: ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে কর্মজীবীদের উদ্বেগ, বাজারে পড়বে নেতিবাচক প্রভাব

আপডেট সময় : ১০:৫১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা ‘জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫’-এর সুপারিশ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে সরকারের এই ‘কয়েক ধাপে বাস্তবায়ন’ পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, কয়েক ধাপে বেতন বাড়লে বাজারে বারবার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।

বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮। এছাড়া, ২০ হাজার টাকার কম পেনশনধারীদের ১০০ শতাংশ, ২০-৪০ হাজারের মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজারের বেশি পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ২,০০০ টাকা ভাতার সুপারিশও করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশাল অংকের আর্থিক চাপ কমাতে নতুন পে-স্কেলটি দুই বা তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনে উন্নয়ন বাজেট থেকে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সংস্থান করা হবে।

সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সুবিধাভোগীরা। তাদের মতে, এতে বারবার বাজারে প্রভাব পড়বে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সুবিধাভোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।