ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

তুরস্কে গ্যাস লিকেজ: প্রবাসী বাবা-ছেলের মর্মান্তিক প্রয়াণ, একজন আশঙ্কাজনক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে কক্ষে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এক বাংলাদেশি বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে তুরস্কের একটি শহরে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন (২৬), যার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত বাবা-ছেলের মরদেহ বর্তমানে তুরস্কের একটি হাসপাতালের হিমঘরে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, তুরস্কের একটি বহুতল ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে তারা একসঙ্গে বসবাস করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাতে সেহেরি খাওয়ার পর ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে কক্ষে অক্সিজেনের তীব্র স্বল্পতা দেখা দেয়। এর ফলেই ঘুমন্ত অবস্থায় তারেক মিয়া ও তার ছেলে সাব্বিরের করুণ মৃত্যু ঘটে।

এমন আকস্মিক দুর্ঘটনার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাদের স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাব্বিরের খালা লুতফা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “হঠাৎ এমন খবরে আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। এ শোক সইবার মতো নয়।”

স্বজনেরা আরও জানান, তাদের পক্ষে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

জানা যায়, তারেক মিয়া প্রায় ১৪ বছর আগে উন্নত জীবনের সন্ধানে তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি তার একমাত্র ছেলে সাব্বিরকেও সেখানে নিয়ে যান। সাব্বিরের মা বেঁচে নেই, ফলে বাবা-ছেলের এই বিয়োগান্তক মৃত্যু পরিবারটিকে আরও শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন, বাবাকে ছাড়া একটুও ভাল্লাগে না’

তুরস্কে গ্যাস লিকেজ: প্রবাসী বাবা-ছেলের মর্মান্তিক প্রয়াণ, একজন আশঙ্কাজনক

আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে কক্ষে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এক বাংলাদেশি বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে তুরস্কের একটি শহরে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন (২৬), যার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত বাবা-ছেলের মরদেহ বর্তমানে তুরস্কের একটি হাসপাতালের হিমঘরে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, তুরস্কের একটি বহুতল ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে তারা একসঙ্গে বসবাস করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাতে সেহেরি খাওয়ার পর ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে কক্ষে অক্সিজেনের তীব্র স্বল্পতা দেখা দেয়। এর ফলেই ঘুমন্ত অবস্থায় তারেক মিয়া ও তার ছেলে সাব্বিরের করুণ মৃত্যু ঘটে।

এমন আকস্মিক দুর্ঘটনার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাদের স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাব্বিরের খালা লুতফা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “হঠাৎ এমন খবরে আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। এ শোক সইবার মতো নয়।”

স্বজনেরা আরও জানান, তাদের পক্ষে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

জানা যায়, তারেক মিয়া প্রায় ১৪ বছর আগে উন্নত জীবনের সন্ধানে তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি তার একমাত্র ছেলে সাব্বিরকেও সেখানে নিয়ে যান। সাব্বিরের মা বেঁচে নেই, ফলে বাবা-ছেলের এই বিয়োগান্তক মৃত্যু পরিবারটিকে আরও শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।