যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে উগ্র খ্রিস্টীয় মতবাদের বিস্তার নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধকে ‘ঈশ্বরের ঐশ্বরিক পরিকল্পনা’ হিসেবে সেনাদের মাঝে প্রচার করছেন, যা বাইবেলে বর্ণিত ‘অন্তিমকালের’ ভবিষ্যদ্বাণীর অংশ। একটি স্বাধীন নজরদারি সংস্থা এই তথ্য প্রকাশ করেছে, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে গভীর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ) নামের ওই সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর মেরিন, বিমান বাহিনী ও স্পেস ফোর্সসহ বিভিন্ন শাখা থেকে তারা ২০০টিরও বেশি এমন অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে খ্রিস্টান, মুসলিম ও ইহুদি ধর্মাবলম্বী সেনারাও রয়েছেন।
একটি গুরুতর অভিযোগে, একজন নন-কমিশন্ড অফিসার (এনসিও) উল্লেখ করেছেন যে, তাদের কমান্ডার নির্দেশ দিয়েছেন যুদ্ধকে ‘ঈশ্বরের ঐশ্বরিক পরিকল্পনার অংশ’ হিসেবে সেনাদের কাছে তুলে ধরতে। কমান্ডার বাইবেলের ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ‘আরমাগেডন’ (চূড়ান্ত যুদ্ধ) এবং যিশু খ্রিস্টের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ওই এনসিও আরও জানান, কমান্ডার নাকি বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যিশু স্বয়ং ইরান যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ‘অভিষিক্ত’ করেছেন, যার মাধ্যমে বাইবেলে বর্ণিত চূড়ান্ত যুদ্ধ ‘আরমাগেডন’ শুরু হবে এবং যিশু পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।” ১৫ জন সেনার পক্ষে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
এমআরএফএফ-এর প্রেসিডেন্ট মাইকি ওয়াইনস্টাইন এই বিষয়ে গার্ডিয়ানের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যখনই ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র জড়িত হয়, তখনই খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদীদের এমন তৎপরতা দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ অমান্য করতে ভয় পান, কারণ এর পরিণতি সাধারণ চাকরির মতো নয়। ওয়াইনস্টাইন অভিযোগ করেন, কমান্ডারদের মধ্যে এক ধরনের অবারিত উল্লাস দেখা যাচ্ছে; তারা মনে করছেন এই যুদ্ধ বাইবেল-স্বীকৃত এবং এটি খ্রিস্টীয় কট্টরপন্থিদের কাঙ্ক্ষিত ‘অন্তিমকালের’ লক্ষণ। তিনি এটিকে মার্কিন সংবিধানে গির্জা ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
এই অভিযোগগুলো এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিজেই উগ্র খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘স্ফিয়ার সোভেরেন্টি’ নামক একটি মতবাদকে সমর্থন করেন, যা উগ্র খ্রিস্টীয় পুনর্গঠনবাদের অংশ। এই দর্শনে সমকামিতার জন্য মৃত্যুদণ্ড এবং পরিবার ও গির্জায় কঠোর পুরুষতান্ত্রিক শাসনের কথা বলা হয়েছে। এমনকি, হেগসেথ যাজক ডগ উইলসনের একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, যেখানে বলা হয় নারীদের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে বা উচ্চপর্যায়ের যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা উচিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বকে একটি ‘খ্রিস্টান বিশ্ব’ হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা হয়।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে, তারা সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি। পরিবর্তে, তারা ইরানের সামরিক অভিযান নিয়ে হেগসেথের দেওয়া কিছু ক্লিপ শেয়ার করেছে। এই ঘটনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে ধর্মীয় চরমপন্থার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























