জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ‘বিগত সরকার’ (শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রলীগের দায়ের করা একটি মামলা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রায় সাত বছর আগে ডাকসু নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় হামলার শিকার হলেও উল্টো তার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার কারণে তাকে এখনো নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। তিনি এই ধরনের ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে’ রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তৌহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিন, ১২ মার্চ ছাত্রদলের ডাকা ছাত্র ধর্মঘট চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন তিনি। ওই হামলায় তিনি রক্তাক্ত হলেও পরবর্তীতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই তাকে আসামি করে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তার সঙ্গে আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।
তার ভাষ্যমতে, ওই একটি মামলাই নয়, ‘বিগত সরকারের’ আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে আরও দুটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছিল। এসব মামলায় গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও ওই দুটি মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে, তবে ডাকসু-সংশ্লিষ্ট মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, বুধবার ঢাকা মহানগর মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের ৪ নম্বর আদালতে মামলার হাজিরা দিতে হয়েছে তাকে। এদিন তাদের আইনজীবী সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্তির আবেদন দাখিল করেছেন। তৌহিদুল ইসলামের দাবি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে’ অংশ নেওয়ার কারণে গত ১৭ বছরে তিনি ১০ বার হামলার শিকার হয়েছেন এবং চারবার রক্তাক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ ‘গণঅভ্যুত্থানেও’ তিনি সম্মুখসারির কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা হত্যা, গুম, হামলা এবং ‘গায়েবি’ ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই কিছু রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ‘ফ্যাসিবাদী আমলে’ দায়ের করা অসংখ্য মামলা এখনো বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যা দ্রুত প্রত্যাহার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















