ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের দেখতে বুধবার দুপুরে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে যান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ছাত্রসংগঠনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান গভীর দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে জানান, গত চার দিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের শান্তিপূর্ণ ও নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের গুরুতরভাবে আহত করেছে। তিনি বলেন, অতীতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল, একই কায়দায় ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরাও তাণ্ডব চালাচ্ছে।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনার উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ঢাকা আলিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ যখন তাদের বিরত রাখার চেষ্টা করেন, তখন তাকেও হামলা করা হয়। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাঁকে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। একজন সম্মানিত শিক্ষককেও তারা ক্ষমা করেনি, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। আমরা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা শুধু এসব কর্মকাণ্ড থেকে নেতাকর্মীদের বিরত রাখবেন না; যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কী দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিও জনগণ দেখতে চায়। তা না হলে আমরা ধরে নেব—বিএনপির পরোক্ষ ইন্ধনেই এসব তাণ্ডব চালানো হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আহতদের ওপর হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি আহত ব্যক্তিদের স্বজনরাও ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলা থেকে রেহাই পাননি। একজন আহত ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এ ধরনের পাশবিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই না, একদিকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যদিকে হামলার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে—সন্ত্রাসী কোনো দলের নয়; যে সন্ত্রাস করবে, তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হবে। এখন আমরা সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ দেখতে চাই।
রিপোর্টারের নাম 



















