ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ধানের ফলন আশঙ্কাজনক, দিশাহারা কৃষক

ধানের বীজ রোপণের পরই চারা গাছে শীষ দেখা দেওয়ায় প্রথমে খুশি হয়েছিলেন কৃষকরা। ভেবেছিলেন, অল্প সময়ে ধান ফলবে বিপ্লব ঘটবে কৃষিতে। কিন্তু সেই আশাই এখন পরিণত হয়েছে হতাশায়। অপরিপক্ব অবস্থায় শীষ ধরায় মাঠের ধান হয়েছে চিটা, ফলে ফলন নেমেছে আশঙ্কাজনকভাবে কমে।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের কৃষকরা জানান, তারা এবারও ‘সাউথ এশিয়ান সিডস’ কোম্পানির উচ্চ ফলনশীল বি.আর-২২ জাতের বীজ রোপণ করেছিলেন। গত বছর একই বীজে ভালো ফলন পাওয়ায় এবারও আশাবাদী ছিলেন সবাই। কিন্তু বীজতলা থেকে চারা তোলার ১৫-২০ দিন পরই দেখা যায় প্রায় সব চারাতেই শীষ ধরে গেছে।

ফলে তিন মাস আগেই ধান পেকে গেলেও অধিকাংশ শীষই ছিল ফাঁপা। কৃষি বিভাগের হিসাব বলছে, নিম্নমানের এই বীজের কারণে প্রায় ৯০ একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, “ডিলার নাসির সরদার আমাদের উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু জমিতে রোপণের পরই সমস্যা দেখা দেয়। জানানো হলেও তারা নানা ছলচাতুরি করে। ক্ষতিপূরণের নামে প্রতি কুরায় ৫ হাজার টাকা দিয়েছে, অথচ আমাদের খরচই পড়েছে ৭ হাজার টাকার বেশি।”

এবিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষকের অভিযোগ পেয়ে আমরা মাঠে তদন্ত করি এবং অভিযোগের সত্যতা পাই। পরে ডিলারকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিই। তিনি আরও জানান, ডিলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ৬৩ শতাংশ জমির অনুকূলে প্রতি কুরায় ৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ সন্তুষ্টিপত্রে স্বাক্ষর করে অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে।

তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, বাস্তব ক্ষতির ভিত্তিতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং নিম্নমানের বীজ সরবরাহের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিস্তীর্ণ মাঠে এখনো সবুজ ধান গাছ দুলছে, কিন্তু বাদুরতলার কৃষকদের চোখে শুধু হতাশার ছায়া। আগাম শীষে ধান নয়, ফুটেছে দুঃখ ধান না পেয়ে দিশাহারা তারা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা গণহত্যা: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে আজ শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক শুনানি

ধানের ফলন আশঙ্কাজনক, দিশাহারা কৃষক

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ধানের বীজ রোপণের পরই চারা গাছে শীষ দেখা দেওয়ায় প্রথমে খুশি হয়েছিলেন কৃষকরা। ভেবেছিলেন, অল্প সময়ে ধান ফলবে বিপ্লব ঘটবে কৃষিতে। কিন্তু সেই আশাই এখন পরিণত হয়েছে হতাশায়। অপরিপক্ব অবস্থায় শীষ ধরায় মাঠের ধান হয়েছে চিটা, ফলে ফলন নেমেছে আশঙ্কাজনকভাবে কমে।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের কৃষকরা জানান, তারা এবারও ‘সাউথ এশিয়ান সিডস’ কোম্পানির উচ্চ ফলনশীল বি.আর-২২ জাতের বীজ রোপণ করেছিলেন। গত বছর একই বীজে ভালো ফলন পাওয়ায় এবারও আশাবাদী ছিলেন সবাই। কিন্তু বীজতলা থেকে চারা তোলার ১৫-২০ দিন পরই দেখা যায় প্রায় সব চারাতেই শীষ ধরে গেছে।

ফলে তিন মাস আগেই ধান পেকে গেলেও অধিকাংশ শীষই ছিল ফাঁপা। কৃষি বিভাগের হিসাব বলছে, নিম্নমানের এই বীজের কারণে প্রায় ৯০ একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, “ডিলার নাসির সরদার আমাদের উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু জমিতে রোপণের পরই সমস্যা দেখা দেয়। জানানো হলেও তারা নানা ছলচাতুরি করে। ক্ষতিপূরণের নামে প্রতি কুরায় ৫ হাজার টাকা দিয়েছে, অথচ আমাদের খরচই পড়েছে ৭ হাজার টাকার বেশি।”

এবিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষকের অভিযোগ পেয়ে আমরা মাঠে তদন্ত করি এবং অভিযোগের সত্যতা পাই। পরে ডিলারকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিই। তিনি আরও জানান, ডিলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ৬৩ শতাংশ জমির অনুকূলে প্রতি কুরায় ৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ সন্তুষ্টিপত্রে স্বাক্ষর করে অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে।

তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, বাস্তব ক্ষতির ভিত্তিতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং নিম্নমানের বীজ সরবরাহের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিস্তীর্ণ মাঠে এখনো সবুজ ধান গাছ দুলছে, কিন্তু বাদুরতলার কৃষকদের চোখে শুধু হতাশার ছায়া। আগাম শীষে ধান নয়, ফুটেছে দুঃখ ধান না পেয়ে দিশাহারা তারা।