ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

কচুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৮ দোকান ভস্মীভূত, ২০ লাখ টাকার ক্ষতি; ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ছোট আন্ধারমানিক বটতলা এলাকায় গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা, যার জেরে ঘটনাস্থলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ছোট আন্ধারমানিক বটতলা এলাকার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং একে একে আটটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যবসায়ী আন্ধারমানিক সোনাকুড় এলাকার বাসিন্দা।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও মালিকদের মধ্যে রয়েছেন- মিজান শেখের (৫০) গ্যারেজ দোকান, প্রশান্ত মৃধার (৪৫) টেইলার্স, বাদশা শেখের (৪০) মুদি দোকান, সিরাজুল শেখের (২৬) ফিড মিলের দোকান, কাইয়ুম ব্যাপারীর (৫০) মুদি দোকান, আলামীন শেখের (৪৫) মুদি দোকান, আলামীন শেখের (৩৫) ইলেকট্রনিক্সের দোকান এবং আশিস মৃধার (৪৫) মুদি দোকান।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে তাদের দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের এই বিলম্বের কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটা বেড়েছে বলে তাদের দাবি। এ নিয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এছাড়া, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইউএনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন এবং সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে এটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি কোনো নাশকতা, তা অধিকতর তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদকে গণপদত্যাগ: ‘নতুন সরকারের প্রত্যাশাকে পথ দিতেই’ — বললেন চেয়ারম্যান

কচুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৮ দোকান ভস্মীভূত, ২০ লাখ টাকার ক্ষতি; ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ছোট আন্ধারমানিক বটতলা এলাকায় গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা, যার জেরে ঘটনাস্থলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ছোট আন্ধারমানিক বটতলা এলাকার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং একে একে আটটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যবসায়ী আন্ধারমানিক সোনাকুড় এলাকার বাসিন্দা।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও মালিকদের মধ্যে রয়েছেন- মিজান শেখের (৫০) গ্যারেজ দোকান, প্রশান্ত মৃধার (৪৫) টেইলার্স, বাদশা শেখের (৪০) মুদি দোকান, সিরাজুল শেখের (২৬) ফিড মিলের দোকান, কাইয়ুম ব্যাপারীর (৫০) মুদি দোকান, আলামীন শেখের (৪৫) মুদি দোকান, আলামীন শেখের (৩৫) ইলেকট্রনিক্সের দোকান এবং আশিস মৃধার (৪৫) মুদি দোকান।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে তাদের দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের এই বিলম্বের কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটা বেড়েছে বলে তাদের দাবি। এ নিয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এছাড়া, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইউএনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন এবং সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে এটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি কোনো নাশকতা, তা অধিকতর তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।