ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

মাহিগঞ্জে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নারীসহ ৭ আহত, এলাকায় উত্তেজনা

রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানাধীন পীরগাছা উপজেলার নয়ানদীর পাড় এলাকায় একটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে রাস্তাটির সীমানা নির্ধারণের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, নয়ানদীর পাড় এলাকার ওই সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী পক্ষ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। ভুক্তভোগী শাহজাদা মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাটি উদ্ধারের পদক্ষেপ নেয়।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে রাস্তাটির সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। আলোচনা চলাকালেই দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কল্যাণী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নেছার আহমেদ জানান, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমানা নির্ধারণে বসার পরই দুই পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে শাহজাদা মিয়ার পক্ষের ৪ জন এবং অপর পক্ষের ৩ জন আহত হন।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন মির্জা সুমন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে একবার রাস্তাটি উদ্ধার করা হলেও তৎকালীন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ফুলারের নেতৃত্বে সেটি পুনরায় দখল করা হয়। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন করে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ এই সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগী পক্ষের নুর হোসেন ও শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে তালতলার আলুর ব্যাপারী সাইদুল মুন্সির উস্কানিতে ফেরদৌস আলম ফুলার গ্রুপের পক্ষ থেকে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ হামলায় শাহাজাদা মিয়া (৫৫), ওমর ফারুক (১৭), সবজা বেগম (৫৫) ও মৌসুমি বেগম (২৩) গুরুতর আহত হন।

অন্যদিকে, ফেরদৌস আলম ফুলার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গত ৬৫ বছর ধরে এখানে কোনো রাস্তা ছিল না। তারা হঠাৎ করে গণ্ডগোল করার প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের পক্ষের মাহাফুজার (২২), মাসুদ (২৪) ও ফজলুর রহমানকে (৫০) পিটিয়ে আহত করেছে।” তিনি এ ঘটনার ন্যায্য বিচার দাবি করেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টায় উভয় পক্ষকে থানায় তলব করা হয়েছে। কোনো পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই সীমিত পরিসরে ফ্লাইট শুরু করছে এমিরেটস

মাহিগঞ্জে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নারীসহ ৭ আহত, এলাকায় উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানাধীন পীরগাছা উপজেলার নয়ানদীর পাড় এলাকায় একটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে রাস্তাটির সীমানা নির্ধারণের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, নয়ানদীর পাড় এলাকার ওই সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী পক্ষ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। ভুক্তভোগী শাহজাদা মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাটি উদ্ধারের পদক্ষেপ নেয়।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে রাস্তাটির সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। আলোচনা চলাকালেই দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কল্যাণী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নেছার আহমেদ জানান, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমানা নির্ধারণে বসার পরই দুই পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে শাহজাদা মিয়ার পক্ষের ৪ জন এবং অপর পক্ষের ৩ জন আহত হন।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন মির্জা সুমন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে একবার রাস্তাটি উদ্ধার করা হলেও তৎকালীন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ফুলারের নেতৃত্বে সেটি পুনরায় দখল করা হয়। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন করে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ এই সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগী পক্ষের নুর হোসেন ও শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে তালতলার আলুর ব্যাপারী সাইদুল মুন্সির উস্কানিতে ফেরদৌস আলম ফুলার গ্রুপের পক্ষ থেকে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ হামলায় শাহাজাদা মিয়া (৫৫), ওমর ফারুক (১৭), সবজা বেগম (৫৫) ও মৌসুমি বেগম (২৩) গুরুতর আহত হন।

অন্যদিকে, ফেরদৌস আলম ফুলার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গত ৬৫ বছর ধরে এখানে কোনো রাস্তা ছিল না। তারা হঠাৎ করে গণ্ডগোল করার প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের পক্ষের মাহাফুজার (২২), মাসুদ (২৪) ও ফজলুর রহমানকে (৫০) পিটিয়ে আহত করেছে।” তিনি এ ঘটনার ন্যায্য বিচার দাবি করেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টায় উভয় পক্ষকে থানায় তলব করা হয়েছে। কোনো পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।