ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর ২০ বছরের প্রস্তাব ইরানের: দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান ২০ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী শনিবার দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পরে নেভাদার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, চলমান উত্তেজনা দ্রুতই শেষ হতে পারে বলে তার আশা।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ইসলামাবাদে পূর্ববর্তী বৈঠকে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ট্রাম্প মনে করছেন, এখন পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, একটি চুক্তি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, তেলের দাম কমবে এবং মূল্যস্ফীতিও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক ঝুঁকিও কমে আসবে।

ট্রাম্প আরও জানান, ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তার মতে, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক চাপ ও অবরোধের ফলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে গেছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। এতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারায় এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের বেশি বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের যুদ্ধবিরতি যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পথ প্রশস্ত করে, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর ২০ বছরের প্রস্তাব ইরানের: দাবি ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৩:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান ২০ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী শনিবার দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পরে নেভাদার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, চলমান উত্তেজনা দ্রুতই শেষ হতে পারে বলে তার আশা।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ইসলামাবাদে পূর্ববর্তী বৈঠকে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ট্রাম্প মনে করছেন, এখন পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, একটি চুক্তি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, তেলের দাম কমবে এবং মূল্যস্ফীতিও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক ঝুঁকিও কমে আসবে।

ট্রাম্প আরও জানান, ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তার মতে, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক চাপ ও অবরোধের ফলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে গেছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। এতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারায় এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের বেশি বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের যুদ্ধবিরতি যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পথ প্রশস্ত করে, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।