মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’ অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সময়ে, বাহরাইনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টার ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে’। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে বাহরাইন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি। তারা জনগণকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং কেবল সরকারি সূত্রের তথ্য সংগ্রহ করার আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বাহরাইনেই মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশজুড়ে এই নৌবহর কাজ করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই হামলা ইরানের স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে ঘটে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানি জনগণের প্রতি দেশটির শাসনের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বানের প্রায় একই সময়ে।
এই ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েত জানিয়েছে, তারা নিজ নিজ আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে, ইসরায়েলেও সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা হিসেবে দেশজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে, যা গোটা অঞ্চলের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















