ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কূটনৈতিক বরফ গলানোর মিশন: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারত সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার করতে ভারত সফর শুরু করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শুক্রবার তিনি দেশটিতে পৌঁছান। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্য-নির্ভরতা কমিয়ে এশীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করাই কার্নির এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২০২৩ সালে কানাডার মাটিতে এক শিখ নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছিল। তৎকালীন ট্রুডো সরকার ওই ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনলে দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে ২০২৪ সালে উভয় দেশ একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। তবে ২০২৫ সালের মার্চে মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করে এবং পুনরায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল হয়।

সফরের শুরুতে মুম্বাইয়ে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি বিনিময়, প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে ভারতের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে কানাডার কারিগরি সহায়তা এবং বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনার পথ প্রশস্ত হতে পারে এই সফরে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনন্দ জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা ও দমন-পীড়ন রোধের বিষয়গুলোও তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তন। ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য শুল্ক নীতি ও বাণিজ্যিক কড়াকড়ির আশঙ্কায় কানাডা এখন ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। বর্তমানে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঝুঁকি এড়াতে এবং খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে মিত্র হিসেবে পাশে চায় অটোয়া। ভারত সফর শেষ করে মার্ক কার্নি জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

কূটনৈতিক বরফ গলানোর মিশন: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারত সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার করতে ভারত সফর শুরু করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শুক্রবার তিনি দেশটিতে পৌঁছান। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্য-নির্ভরতা কমিয়ে এশীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করাই কার্নির এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২০২৩ সালে কানাডার মাটিতে এক শিখ নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছিল। তৎকালীন ট্রুডো সরকার ওই ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনলে দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে ২০২৪ সালে উভয় দেশ একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। তবে ২০২৫ সালের মার্চে মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করে এবং পুনরায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল হয়।

সফরের শুরুতে মুম্বাইয়ে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি বিনিময়, প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে ভারতের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে কানাডার কারিগরি সহায়তা এবং বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনার পথ প্রশস্ত হতে পারে এই সফরে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনন্দ জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা ও দমন-পীড়ন রোধের বিষয়গুলোও তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তন। ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য শুল্ক নীতি ও বাণিজ্যিক কড়াকড়ির আশঙ্কায় কানাডা এখন ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। বর্তমানে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঝুঁকি এড়াতে এবং খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে মিত্র হিসেবে পাশে চায় অটোয়া। ভারত সফর শেষ করে মার্ক কার্নি জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন।