বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ প্রশস্ত করার একটি অপপ্রয়াস হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন যেমন সংকটে পড়েছে, তেমনি সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে যে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছিল, তাও এখন চরম হুমকির মুখে।
বুধবার রাতে দলের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন। বিশেষ করে গত সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিনি বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় শুরু করেছিলেন। তার নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের ফলে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচার বন্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছিল।
বিবৃতিতে এনসিপি আহ্বায়ক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আহসান এইচ মনসুর। এটি বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা সম্ভব হতো। কিন্তু এই সংস্কার কার্যক্রম বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থে আঘাত হেনেছিল। মূলত লুটপাটের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি বিশেষ গোষ্ঠী তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং এর জের ধরেই তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে।
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক পরিচয়ে একদল কর্মকর্তা ব্যাংকের দীর্ঘদিনের রীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে হঠকারিতায় লিপ্ত হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি গভর্নরের উপদেষ্টাকে শারীরিক লাঞ্ছনার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।
হামলার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের বিএনপিপন্থী দাবি করলেও মূলত তারা বিগত সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দল থেকে নির্বাচন করে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ পদে বসেছিলেন। এখন তারাই খোলস পাল্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছেন এবং পেশাদার কর্মকর্তাদের হেনস্তা করছেন।
নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এমন মব জাস্টিস এবং বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তিনি আর্থিক খাতের স্বার্থে এই অস্থিতিশীলতা বন্ধের দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























