ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে দেশব্যাপী সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক জামায়াত আমিরের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের ক্রমবর্ধমান চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের প্রতি চূড়ান্ত আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটির আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে এই অপকর্ম বন্ধ না হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের রায়কে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং আগামীতে ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবনের বিনিময়ে হলেও রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

বুধবার (তারিখ) মিরপুরের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় (ব্রাঞ্চ-২, ইব্রাহিমপুর) প্রাঙ্গণে কাফরুল উত্তর ও দক্ষিণ থানা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিল, কিন্তু সেই রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি কেন্দ্রে কড়া পাহারা বসানো হবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, তারা সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলবে এবং তাদের অধিকার আদায় করে ছাড়বে। ঢাকা-১৫ আসনকে একটি মডেল আসন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ৫৪ বছরে অনেক আদর্শের শাসন দেখেছে, কিন্তু ইসলামী আদর্শের শাসন দেখার সৌভাগ্য তাদের হয়নি। ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত নীতি, যেমন – ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করা এবং প্রবাসীদের মৃতদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য সরকারি দলকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে মানতে হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে না, বরং একটি অর্থপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, ছাত্রশিবির, ওলামা, যুব প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য এবং কাফরুল দক্ষিণ ও উত্তর থানার সেক্রেটারি যথাক্রমে মু. আবু নাহিদ ও মো. আশিকুর রহমান।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মো. শহিদুল্লাহ, কাফরুল দক্ষিণ থানার আমির উপাধ্যক্ষ মু. আনোয়ারুল করিম, কাফরুল উত্তর থানার আমির মো. রেজাউল করিম, কাফরুল জোন টিম সদস্য মো. জসিমুদ্দিন, আলাউদ্দিন মোল্লা, নাজমুল হাসান খান, মুফতি মাসুদুর রহমান, থানার কর্মপরিষদ সদস্য আবুল বাশার, সালাউদ্দিন শাহিন, পরশ আব্দুল্লাহ, মোস্তফা গাউসুল আজম, শহিদুল্লাহ বেপারী, মেসবাহ উদ্দিন মাহিন প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে দেশব্যাপী সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় : ০৯:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ক্রমবর্ধমান চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের প্রতি চূড়ান্ত আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটির আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে এই অপকর্ম বন্ধ না হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের রায়কে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং আগামীতে ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবনের বিনিময়ে হলেও রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

বুধবার (তারিখ) মিরপুরের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় (ব্রাঞ্চ-২, ইব্রাহিমপুর) প্রাঙ্গণে কাফরুল উত্তর ও দক্ষিণ থানা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিল, কিন্তু সেই রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি কেন্দ্রে কড়া পাহারা বসানো হবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, তারা সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলবে এবং তাদের অধিকার আদায় করে ছাড়বে। ঢাকা-১৫ আসনকে একটি মডেল আসন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ৫৪ বছরে অনেক আদর্শের শাসন দেখেছে, কিন্তু ইসলামী আদর্শের শাসন দেখার সৌভাগ্য তাদের হয়নি। ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত নীতি, যেমন – ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করা এবং প্রবাসীদের মৃতদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য সরকারি দলকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে মানতে হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে না, বরং একটি অর্থপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, ছাত্রশিবির, ওলামা, যুব প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য এবং কাফরুল দক্ষিণ ও উত্তর থানার সেক্রেটারি যথাক্রমে মু. আবু নাহিদ ও মো. আশিকুর রহমান।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মো. শহিদুল্লাহ, কাফরুল দক্ষিণ থানার আমির উপাধ্যক্ষ মু. আনোয়ারুল করিম, কাফরুল উত্তর থানার আমির মো. রেজাউল করিম, কাফরুল জোন টিম সদস্য মো. জসিমুদ্দিন, আলাউদ্দিন মোল্লা, নাজমুল হাসান খান, মুফতি মাসুদুর রহমান, থানার কর্মপরিষদ সদস্য আবুল বাশার, সালাউদ্দিন শাহিন, পরশ আব্দুল্লাহ, মোস্তফা গাউসুল আজম, শহিদুল্লাহ বেপারী, মেসবাহ উদ্দিন মাহিন প্রমুখ।