কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলে কোস্ট গার্ডের এক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত জাহাঙ্গীর ও তার আট সহযোগীকে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে। এই সময় সমুদ্রের জলদস্যুদের কবলে পড়া চারজন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী থানার অন্তর্গত সোনাদিয়া চর সংলগ্ন এলাকায় “এফ. বি. মায়ের দোয়া-৩” নামের একটি মাছ ধরার নৌকা জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এর মাধ্যমে কোস্ট গার্ড এই ঘটনার খবর পায়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, কোস্ট গার্ড স্টেশন কক্সবাজার এবং মহেশখালী যৌথভাবে ওই এলাকায় একটি উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালীন, কোস্ট গার্ডের একটি দল একটি সন্দেহজনক মাছ ধরার নৌকাকে থামার সংকেত দেয়। তবে, নৌকাটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে, আভিযানিক দল নৌকাটিকে থামানোর জন্য পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয় এবং ধাওয়া করে সেটিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধারকারী দল তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড তাজা গুলি এবং ছয়টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এই অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত জাহাঙ্গীর (২৮) সহ তার আট সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সাথে, জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া চারজন জেলে এবং তাঁদের নৌকাটিও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ডাকাতেরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথে ডাকাতি করে আসছিল। উদ্ধারকৃত জেলে, নৌকা, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।
কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সমুদ্রপথে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে এবং জানমাল রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 
























