ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৬নং ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের জোড়বাড়ীয়া গ্রামের খান বাড়ি এলাকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২৫৭ বছরের প্রাচীন এক জামে মসজিদ। ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে আজও কালের সাক্ষী হয়ে থাকা এই উপাসনালয়টি নবাব শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে ঐতিহ্য বহন করে এলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এই প্রাচীন মসজিদটি এখন সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য তাকিয়ে আছে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার দিকে।
সরেজমিনে জানা যায়, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি স্থানীয় আয়াত খান নামের এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির উদ্যোগে প্রায় আড়াই শতাব্দীরও বেশি আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জনশ্রুতি আছে, তৎকালীন সময়ে আশপাশের প্রায় ৪ থেকে ৫টি গ্রামের মুসল্লিরা এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে আসতেন, যা এর তৎকালীন গুরুত্বের পরিচায়ক। কালের বিবর্তনে সময়ের পরিবর্তন হলেও মসজিদের দৃশ্যমান উন্নয়নে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি মো. মজিবর রহমান খান জানান, মসজিদের মোট প্রায় ৭ একর জমি রয়েছে। এই জমি স্থানীয়দের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয় এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত আয় ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় ইমাম ও মোয়াজ্জেমের বেতন পরিশোধ করা হয়।
মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিছু বিশেষত্ব। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এখানে “বিবির ঘর” নামে একটি কক্ষ রয়েছে, যেখানে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে নিয়ে আসার প্রচলন ছিল। এছাড়া মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি বড় পুকুর (পশ্চিম পাশে ৫২ শতাংশ এবং পূর্ব পাশে প্রায় ১ একর) এবং দুই পাশে দুটি কবরস্থান রয়েছে, যা এর পরিবেশকে আরও পবিত্র করে তুলেছে।
বর্তমানে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লিদের ব্যাপক সমাগম হয়, যার ফলে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় মসজিদটি সম্প্রসারণ করে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু ধর্মীয় উপাসনার কেন্দ্র নয়, এর প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন।
এই প্রাচীন স্থাপত্যের সংরক্ষণ ও আরও আধুনিকায়নের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী এখন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, দানশীল ব্যক্তি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ সংস্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে মসজিদটি তার ঐতিহ্য ধরে রেখে আরও দীর্ঘকাল ধর্মপ্রাণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারবে।
রিপোর্টারের নাম 
























