দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুনরায় চালু হয়েছে ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস। মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই যাত্রীবাহী বাস চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বার পুনরায় উন্মোচিত হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় পৌঁছায়। সেখানে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এবং ত্রিপুরা রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (টিআরটিসি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সমর রায় বাসটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। পরবর্তীতে বিকেলে আগরতলা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে টিআরটিসির একটি বাস পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদান প্রক্রিয়াও সীমিত করে দেয়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল শুরু হলেও মঙ্গলবার থেকে তা আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ রহমান টিআরটিসি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানান, বাসটি গত জানুয়ারি মাস থেকেই ট্রায়াল হিসেবে চলছিল। এখন থেকে এটি নিয়মিত যাতায়াত করবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে দুই দিন এই রুটে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিনের যাত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও জানান, উদ্বোধনী দিনে ঢাকা থেকে স্টাফ ও যাত্রী মিলিয়ে মোট ৯ জন আগরতলায় গেছেন। অন্যদিকে, আগরতলা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ৫ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দীর্ঘ বিরতির পর এই সেবা চালু হওয়ায় দুই দেশের নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























