ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ধর্ষণের পর তরুণী হত্যা: বিএনপি নেতা ও তার ছেলেসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীর মাধবদীতে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১১) এবং নরসিংদী জেলা পুলিশের একটি যৌথ দল নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালীরচর হোসেন বাজার এলাকা থেকে এই পাঁচজনকে আটক করে। নরসিংদী জেলা পুলিশ এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কোতোয়ালীর চর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. এবাদুল্লাহ (৪০), বিলপাড় এলাকার আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০), হোসেন বাজার এলাকার নাজিরের ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)। অপর একজনের নাম এখনো জানা যায়নি।

প্রথমে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নূরা নামে এক ব্যক্তি কৌশলে ওই তরুণীকে মাধবদী থানাধীন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালীরচর এলাকায় চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফারসহ (৩৭) আরও কয়েকজন মিলে তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

পরদিন, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি, তরুণীর মা ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নিলে বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী মেম্বার তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০), গ্রাম সরকার আবু তাহের (৫০) এবং মো. আইয়ুব (৩০) কে সঙ্গে নিয়ে পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, আহম্মদ আলী মেম্বার মূল আসামিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিষয়টির বিচার না করে বরং বাদীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় বুধবার রাতে। বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় নূরার নেতৃত্বে আরও পাঁচজন মিলে তরুণীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে। এরপর তাকে হত্যা করে লাশ সরিষাক্ষেতে ফেলে রাখে। পরদিন, ২৬ ফেব্রুয়ারি, সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালীরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষাক্ষেত থেকে তরুণীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল, ঠোঁট ও মুখমণ্ডল রক্তাক্ত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আলিয়ার দেয়ালে গ্রাফিতি: বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

ধর্ষণের পর তরুণী হত্যা: বিএনপি নেতা ও তার ছেলেসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১২:৩০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১১) এবং নরসিংদী জেলা পুলিশের একটি যৌথ দল নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালীরচর হোসেন বাজার এলাকা থেকে এই পাঁচজনকে আটক করে। নরসিংদী জেলা পুলিশ এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কোতোয়ালীর চর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. এবাদুল্লাহ (৪০), বিলপাড় এলাকার আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০), হোসেন বাজার এলাকার নাজিরের ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)। অপর একজনের নাম এখনো জানা যায়নি।

প্রথমে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নূরা নামে এক ব্যক্তি কৌশলে ওই তরুণীকে মাধবদী থানাধীন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালীরচর এলাকায় চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফারসহ (৩৭) আরও কয়েকজন মিলে তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

পরদিন, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি, তরুণীর মা ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নিলে বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী মেম্বার তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০), গ্রাম সরকার আবু তাহের (৫০) এবং মো. আইয়ুব (৩০) কে সঙ্গে নিয়ে পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, আহম্মদ আলী মেম্বার মূল আসামিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিষয়টির বিচার না করে বরং বাদীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় বুধবার রাতে। বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় নূরার নেতৃত্বে আরও পাঁচজন মিলে তরুণীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে। এরপর তাকে হত্যা করে লাশ সরিষাক্ষেতে ফেলে রাখে। পরদিন, ২৬ ফেব্রুয়ারি, সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালীরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষাক্ষেত থেকে তরুণীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল, ঠোঁট ও মুখমণ্ডল রক্তাক্ত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।