হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে দাম্পত্য কলহের বলি হয়েছেন এক যুবক। পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন নাঈম মিয়া (২২) নামের ওই ব্যক্তি। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার নোয়ানগর গ্রামে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাঈম মিয়া উপজেলার নোয়ানগর গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে। গত শনিবার সন্ধ্যায় নাঈম ও তার স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। এই কলহের একপর্যায়ে নাঈম বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি নিজ গ্রামসংলগ্ন কালনী নদীর তীরে অবস্থিত বেড়িবাঁধ এলাকায় চলে যান। সেখানেই রাতের কোনো এক সময় তিনি বিষ পান করেন।
পরদিন রোববার সকালে হাওরে গরু চরাতে যাওয়া এক নারী তাকে বেড়িবাঁধ এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং নাঈমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ধল গ্রামের গোলাপ মিয়ার কন্যা চম্পার সঙ্গে পারিবারিকভাবে নাঈমের বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পরও চম্পার সঙ্গে তার খালাতো ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাঈম দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। স্ত্রীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই তীব্র ঝগড়া ও পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন জানান, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে নাঈম কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























