ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নকলা-নালিতাবাড়ীতে পৌর টোলের নামে ‘চাঁদাবাজি’ বন্ধে এমপির হস্তক্ষেপ, ইজারা স্থগিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী পৌরসভায় ইজিবাইক, অটোরিকশা, মিশুক ও ভ্যানসহ ক্ষুদ্র যানবাহন থেকে টোল আদায়ের নামে চলমান জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। তাঁর নির্দেশনায় জনস্বার্থে দুই পৌরসভার নতুন বছরের ইজারা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী ও নকলা পৌরসভায় যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড না থাকলেও বছরের পর বছর ধরে রাস্তার ওপর অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছিল। বিশেষ করে নালিতাবাড়ী শহরের ১৪টি পয়েন্টে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা তোলা হতো। অনেক ক্ষেত্রে একই দিনে একাধিকবার এবং দ্বিগুণ টোল আদায়ের অভিযোগ ছিল চালকদের। এমনকি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন থেকেও টোলের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী চালকদের ভাষ্যমতে, শুধু নালিতাবাড়ী উপজেলাতেই চার হাজারের বেশি ক্ষুদ্র যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের চালকরা অত্যন্ত দরিদ্র এবং প্রতিদিনের আয়ের একটি অংশ টোল হিসেবে দেওয়া তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ অবস্থায় সম্প্রতি চালকরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরীর কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি পৌর প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে এই জনদুর্ভোগ বন্ধের উদ্যোগ নেন।

এদিকে, টোল বন্ধের দাবিতে গত রবিবার নকলা শহরে মানববন্ধন করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও অটোচালকরা। সোমবার নালিতাবাড়ীতেও একই ধরনের কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। তবে তার আগেই পৌর কর্তৃপক্ষ ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দিলে চালকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, টোল আদায়ের নামে অনেক সময় ইজারাদারের লোকজন চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। বর্তমান ইজারাদারদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল। তাই এই সিদ্ধান্তকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রেজওয়ানা আফরিন জানান, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকা এবং টোল আদায় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আপাতত ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, “খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি ইজারাদার ও চালক—উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ইজারাদাররা জনস্বার্থে টোল আদায় বন্ধে সম্মত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইজারাদাররা যদি কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, প্রয়োজনে আমি ব্যক্তিগতভাবে তা পুষিয়ে দেব। তবুও সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পায়।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

নকলা-নালিতাবাড়ীতে পৌর টোলের নামে ‘চাঁদাবাজি’ বন্ধে এমপির হস্তক্ষেপ, ইজারা স্থগিত

আপডেট সময় : ১১:০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী পৌরসভায় ইজিবাইক, অটোরিকশা, মিশুক ও ভ্যানসহ ক্ষুদ্র যানবাহন থেকে টোল আদায়ের নামে চলমান জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। তাঁর নির্দেশনায় জনস্বার্থে দুই পৌরসভার নতুন বছরের ইজারা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী ও নকলা পৌরসভায় যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড না থাকলেও বছরের পর বছর ধরে রাস্তার ওপর অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছিল। বিশেষ করে নালিতাবাড়ী শহরের ১৪টি পয়েন্টে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা তোলা হতো। অনেক ক্ষেত্রে একই দিনে একাধিকবার এবং দ্বিগুণ টোল আদায়ের অভিযোগ ছিল চালকদের। এমনকি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন থেকেও টোলের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী চালকদের ভাষ্যমতে, শুধু নালিতাবাড়ী উপজেলাতেই চার হাজারের বেশি ক্ষুদ্র যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের চালকরা অত্যন্ত দরিদ্র এবং প্রতিদিনের আয়ের একটি অংশ টোল হিসেবে দেওয়া তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ অবস্থায় সম্প্রতি চালকরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরীর কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি পৌর প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে এই জনদুর্ভোগ বন্ধের উদ্যোগ নেন।

এদিকে, টোল বন্ধের দাবিতে গত রবিবার নকলা শহরে মানববন্ধন করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও অটোচালকরা। সোমবার নালিতাবাড়ীতেও একই ধরনের কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। তবে তার আগেই পৌর কর্তৃপক্ষ ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দিলে চালকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, টোল আদায়ের নামে অনেক সময় ইজারাদারের লোকজন চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। বর্তমান ইজারাদারদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল। তাই এই সিদ্ধান্তকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রেজওয়ানা আফরিন জানান, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকা এবং টোল আদায় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আপাতত ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, “খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি ইজারাদার ও চালক—উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ইজারাদাররা জনস্বার্থে টোল আদায় বন্ধে সম্মত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইজারাদাররা যদি কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, প্রয়োজনে আমি ব্যক্তিগতভাবে তা পুষিয়ে দেব। তবুও সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পায়।”