ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সকালে আলোর ঝলক, দিনটাই মেঘমুক্ত হোক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

## নতুন সরকারের আলো ঝলমলে সকাল: চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রত্যয়ী নেতৃত্ব

ঢাকা: দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। নবগঠিত সরকারের যাত্রার শুরুতেই আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা ও ১০ সদস্যের উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে দায়িত্ব বন্টন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং ১০০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকাও প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সরকার জাতীয় প্রত্যাশা পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কর্মসূচি ও অগ্রাধিকার:

সরকারের প্রথম দিনের কর্মতৎপরতা থেকেই স্পষ্ট যে, অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন, যা দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা জনপ্রশাসনের সকল স্তরেই বাস্তবায়িত হবে বলে জনগণ আশা করছে।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও জনস্বস্তি:

প্রবাদ আছে, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ – অর্থাৎ সকাল দেখেই দিনটি কেমন যাবে তা আঁচ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুরুটা সত্যিই আলোকোজ্জ্বল। সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজ খরচে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে তিনি এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর বহরের গাড়িসংখ্যা কমিয়ে আনা এবং যাতায়াতের সময় সড়ক যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না রাখার নির্দেশ জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি এনে দেবে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি অতিথিদের আগমনের সময় ছাড়া পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার এবং সড়কে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থান বন্ধ করার নির্দেশ জনভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।

সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা বর্জন:

শপথগ্রহণের দিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বড় চমক ছিল ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লটের সুবিধা বর্জন করার ঘোষণা। এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন জনগণের করের টাকার অপচয় রোধ করবে, তেমনই ভোগবাদী রাজনীতির বিপরীতে এক নতুন বার্তা দেবে। ১৯৮৮ সাল থেকে চালু হওয়া এই সুবিধা বাবদ প্রতি বছর সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব হারায়। এই পদক্ষেপের ফলে রাষ্ট্র অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠক ও জনদুর্ভোগ হ্রাস:

মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত জনগণের সাপ্তাহিক ভোগান্তি লাঘবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকের কারণে ভিআইপি সড়কে সাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতো এবং অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হতো।

ঐক্য, সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা:

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐক্য, সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র কাঠামোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। বিভাজিত সমাজ ও রাষ্ট্রকে এক সূত্রে বাঁধার এই আহ্বান জাতীয় ঐক্য ও সংহতির জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকে সরকার অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। পবিত্র রমজান মাসে প্রবেশ করা বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং বাজার তদারকি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া অপরিহার্য।

স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়:

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এটি নাগরিক সেবা নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ‘মব কালচার’ বন্ধ করার এবং পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তারেক রহমানের সরকার মব কালচার বন্ধ করে কেবল যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল-সমাবেশ ও স্মারকলিপি দেওয়ার সুযোগ রাখবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও তথ্য-সম্প্রচার:

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ওপর কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে এই খাতকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল, যা থেকে উত্তরণ সহজ হবে না।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরীর বার্তা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করা যায়।

শিক্ষা ও সড়ক পরিবহন:

শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা, জাতীয় কারিকুলাম পর্যালোচনা এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নকলমুক্ত শিক্ষার জন্য তিনি আইকন হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, সড়ক, সেতু ও রেল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা টাকাকে চাঁদাবাজি বলা যায় না – এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের বেফাঁস বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।

ভবিষ্যৎ展望:

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের বার্তা দিচ্ছে। তবে, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য এই বার্তাগুলোকে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে দেখতে চাইবে দেশবাসী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যদি তার ঘোষিত নীতি ও অগ্রাধিকারগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্প-সাহিত্যচর্চা রাজনীতির ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী

সকালে আলোর ঝলক, দিনটাই মেঘমুক্ত হোক

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## নতুন সরকারের আলো ঝলমলে সকাল: চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রত্যয়ী নেতৃত্ব

ঢাকা: দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। নবগঠিত সরকারের যাত্রার শুরুতেই আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা ও ১০ সদস্যের উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে দায়িত্ব বন্টন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং ১০০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকাও প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সরকার জাতীয় প্রত্যাশা পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কর্মসূচি ও অগ্রাধিকার:

সরকারের প্রথম দিনের কর্মতৎপরতা থেকেই স্পষ্ট যে, অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন, যা দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা জনপ্রশাসনের সকল স্তরেই বাস্তবায়িত হবে বলে জনগণ আশা করছে।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও জনস্বস্তি:

প্রবাদ আছে, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ – অর্থাৎ সকাল দেখেই দিনটি কেমন যাবে তা আঁচ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুরুটা সত্যিই আলোকোজ্জ্বল। সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজ খরচে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে তিনি এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর বহরের গাড়িসংখ্যা কমিয়ে আনা এবং যাতায়াতের সময় সড়ক যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না রাখার নির্দেশ জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি এনে দেবে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি অতিথিদের আগমনের সময় ছাড়া পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার এবং সড়কে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থান বন্ধ করার নির্দেশ জনভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।

সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা বর্জন:

শপথগ্রহণের দিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বড় চমক ছিল ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লটের সুবিধা বর্জন করার ঘোষণা। এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন জনগণের করের টাকার অপচয় রোধ করবে, তেমনই ভোগবাদী রাজনীতির বিপরীতে এক নতুন বার্তা দেবে। ১৯৮৮ সাল থেকে চালু হওয়া এই সুবিধা বাবদ প্রতি বছর সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব হারায়। এই পদক্ষেপের ফলে রাষ্ট্র অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠক ও জনদুর্ভোগ হ্রাস:

মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত জনগণের সাপ্তাহিক ভোগান্তি লাঘবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকের কারণে ভিআইপি সড়কে সাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতো এবং অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হতো।

ঐক্য, সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা:

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐক্য, সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র কাঠামোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। বিভাজিত সমাজ ও রাষ্ট্রকে এক সূত্রে বাঁধার এই আহ্বান জাতীয় ঐক্য ও সংহতির জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিকে সরকার অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। পবিত্র রমজান মাসে প্রবেশ করা বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং বাজার তদারকি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া অপরিহার্য।

স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়:

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এটি নাগরিক সেবা নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ‘মব কালচার’ বন্ধ করার এবং পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তারেক রহমানের সরকার মব কালচার বন্ধ করে কেবল যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল-সমাবেশ ও স্মারকলিপি দেওয়ার সুযোগ রাখবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও তথ্য-সম্প্রচার:

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ওপর কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে এই খাতকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল, যা থেকে উত্তরণ সহজ হবে না।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরীর বার্তা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করা যায়।

শিক্ষা ও সড়ক পরিবহন:

শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা, জাতীয় কারিকুলাম পর্যালোচনা এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নকলমুক্ত শিক্ষার জন্য তিনি আইকন হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, সড়ক, সেতু ও রেল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা টাকাকে চাঁদাবাজি বলা যায় না – এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের বেফাঁস বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।

ভবিষ্যৎ展望:

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের বার্তা দিচ্ছে। তবে, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য এই বার্তাগুলোকে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে দেখতে চাইবে দেশবাসী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার যদি তার ঘোষিত নীতি ও অগ্রাধিকারগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক