ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হারিয়ে যাওয়া একুশে ফেব্রুয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## স্মৃতির অতলে একুশে: হারানো চেতনার পুনরুজ্জীবন

ঢাকা: মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে পালিত একুশে ফেব্রুয়ারি এখন এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। সময়ের বিবর্তনে, বিশেষ করে গত দুই দশকে, এই দিনটি তার আদি ও অকৃত্রিম আবেগ, গভীর শ্রদ্ধা এবং অধিকার আদায়ের প্রত্যয় থেকে বহু দূরে সরে গেছে বলে মনে করেন একুশের চেতনায় বেড়ে ওঠা প্রজন্ম। বর্তমানে একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান, পদক বিতরণ আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক জমকালো আয়োজনে পর্যবসিত হয়েছে, যেখানে চাপা পড়ে গেছে ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ও তাৎপর্য।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা নিরস্ত্র বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ছিল এক মর্মান্তিক অধ্যায়। সেই রক্তঝরা দিনের স্মৃতিকে ধারণ করে গড়ে ওঠা শহীদ মিনার কেবল একটি স্থাপত্য নয়, বরং এটি বাঙালির আত্মত্যাগ, অধিকার আদায়ের স্পৃহা এবং জাতীয়তাবাদের এক জীবন্ত প্রতীক। সেই সময়ের ভাষা সংগ্রামী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে লেখকের রক্তে মিশে আছে একুশের চেতনা। ছোটবেলা থেকেই খালি পায়ে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তিনি একুশের তাৎপর্য অনুভব করেছেন।

কিন্তু আজকের একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের চিত্র ভিন্ন। লেখকের মতে, বর্তমানে এই দিনে যে হৈ-হুল্লোড়, পদক অর্জনের প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে যুব-যুবতীদের মেলামেশা দেখা যায়, তা সেই সময়ের আন্তরিক, ভাবগম্ভীর ও শোকাহত হৃদয়ের বেদনা এবং অধিকার আদায় ও রক্ষার প্রত্যয় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময়ের ঐতিহ্যবাহী একুশে ফেব্রুয়ারি যেন আজ হারিয়ে গেছে, যা জাতির স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের স্বার্থেই পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন।

জাতির মহত্ত্বের উৎস এবং ভিত্তি হলো তার বিবর্তনশীল সুদীর্ঘ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে জাতি মহাসমুদ্রের ঝোড়ো বাতাসে নোঙরহীন জাহাজের মতো দিশেহারা হয়ে পড়বে। লেখক পলাশীর যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে বলেন, ঠিক যেমন সে সময় জাতি তামাশা দেখে হাততালি দিচ্ছিল, আর নিজেদের ভাগ্যসূর্য দীর্ঘ দুই শতাব্দীর জন্য নিভে যাচ্ছিল, ঠিক তেমনি আজ বাংলা জাতি অপসংস্কৃতির খেলায় বিভোর হয়ে তার ঐতিহ্য বিস্মৃত হচ্ছে।

দেশের সকল ঐতিহ্যবাহী পার্বণ, যা জাতির অবচেতনায় স্মৃতির গভীরে প্রোথিত থেকে মূল্যবোধ দ্বারা চালিত হতে শক্তি যোগায়, তা আজ অবহেলিত, বিস্মৃত বা বিকৃত হয়ে পড়ছে। নববর্ষ, ঈদ, মহররম, শবে বরাত, এমনকি মাতৃভাষা দিবসও এই পরিবর্তনের শিকার। জাতি হিসেবে হারানো স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার জন্য যে জাতীয় চেতনা প্রয়োজন, তার অবচেতনায় বিধৃত শেকড়রূপ, ব্যাপকতর জাতীয় সংস্কৃতির অন্যান্য বিষয়ের মতো, এই হারানো—বা হারাতে বসা—জাতীয় পার্বণগুলোর মূল মূল্যবোধগত রূপ ও আদি রূপসহ পুনরুজ্জীবন এবং ধরে রাখা অতীব আবশ্যক।

মাতৃভাষা বাংলা ভাষার সরকারি ভাষারূপে স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মরণে পালিত হয় এই দিনটি। বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, আসামের বরাক উপত্যকা ও ত্রিপুরাতেও এটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু লেখক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে এই পার্বণ উদযাপনে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন এসেছে এবং তা তার মূল থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। হারিয়ে যাচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের মূল রূপ, তার উৎস ও ভিত্তি যে মূল্যবোধ, তা এবং তার মূল চেতনা।

লেখক উল্লেখ করেন যে, সব পার্বণই মূলত ধর্ম থেকে উৎসারিত হয়ে থাকে এবং কালক্রমে পরিবর্তিত হলেও সাধারণত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের রূপেই থেকে যায়। তবে কিছু পার্বণ, যেমন ফরাসি বিপ্লব-পরবর্তী আধুনিক বিশ্বে উদ্ভূত কিছু পার্বণ, যা সরাসরি ধর্ম থেকে উৎসারিত নয়, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সেরকমই একটি পার্বণ। কিন্তু চূড়ান্ত উৎসবিচারে, এসব ধর্মনিরপেক্ষ পার্বণও পরোক্ষভাবে ধর্ম থেকেই উৎসারিত।

‘একুশ’ মূলত বহু শতাব্দীর বিবর্তনের ভেতর দিয়ে বাংলা জাতির প্রধান ধর্ম ইসলামের একটি মৌলিক মূল্যবোধ—’ইনসাফ’, তথা ‘ন্যায্য অধিকার’-এর বিশ্বাস ও চেতনা থেকে উৎসারিত। ইসলামে ‘ইনসাফ’ এবং সাম্য বা সমতা (Justice & Equality) একটি মৌলিক চেতনাগত ভিত্তি। এই মূল্যবোধ থেকেই বাঙালিরা তাদের অধিকারবঞ্চিত মাতৃভাষার অধিকার উদ্ধারে জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয়।

লেখক আরও বলেন যে, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার বিশেষ দান এবং মানুষের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোরআন শরিফে ভাষাকে মানুষের সৃষ্টি এবং সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, বাংলা ভাষাসহ সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা বাঙালির একটি হাজার বছরের ঐতিহ্য ও ধর্মভিত্তিক দায়িত্ব। অবচেতনায় সক্রিয় সেই চেতনা থেকেই বাংলাদেশের মানুষ বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকারের জন্য দরকারে প্রাণ উৎসর্গ করে, যার নজির অন্য কোথাও বিরল।

পরিশেষে, লেখক জোর দিয়ে বলেন যে, প্রত্যেকটি পার্বণকেই তার সমাজের সামগ্রিক অবচেতনায় সক্রিয় মূল্যবোধের আলোকে দেখতে হবে। ঐতিহ্য বিশ্লেষণ করতে পারলে জাতির পার্বণসমূহ প্রতীকী ভাষায় জাতির অবচেতনার চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং তা জাতির সংস্কৃতির চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী সম্পদ হিসেবে বেঁচে থাকে। নতুবা তা খোলসসর্বস্ব অপসংস্কৃতিক প্রহসনে পর্যবসিত হয়। লেখক আশা প্রকাশ করেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী একুশে ফেব্রুয়ারি তার মূল উৎসের আলোকে ভাস্বর, স্মৃতিময় আলোর মিনার হয়ে চিরায়ত হোক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তাণ্ডব: গুলিতে প্রাণ হারালেন কুতুবদিয়ার এক জেলে

হারিয়ে যাওয়া একুশে ফেব্রুয়ারি

আপডেট সময় : ০৩:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## স্মৃতির অতলে একুশে: হারানো চেতনার পুনরুজ্জীবন

ঢাকা: মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে পালিত একুশে ফেব্রুয়ারি এখন এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। সময়ের বিবর্তনে, বিশেষ করে গত দুই দশকে, এই দিনটি তার আদি ও অকৃত্রিম আবেগ, গভীর শ্রদ্ধা এবং অধিকার আদায়ের প্রত্যয় থেকে বহু দূরে সরে গেছে বলে মনে করেন একুশের চেতনায় বেড়ে ওঠা প্রজন্ম। বর্তমানে একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান, পদক বিতরণ আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক জমকালো আয়োজনে পর্যবসিত হয়েছে, যেখানে চাপা পড়ে গেছে ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ও তাৎপর্য।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা নিরস্ত্র বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ছিল এক মর্মান্তিক অধ্যায়। সেই রক্তঝরা দিনের স্মৃতিকে ধারণ করে গড়ে ওঠা শহীদ মিনার কেবল একটি স্থাপত্য নয়, বরং এটি বাঙালির আত্মত্যাগ, অধিকার আদায়ের স্পৃহা এবং জাতীয়তাবাদের এক জীবন্ত প্রতীক। সেই সময়ের ভাষা সংগ্রামী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে লেখকের রক্তে মিশে আছে একুশের চেতনা। ছোটবেলা থেকেই খালি পায়ে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তিনি একুশের তাৎপর্য অনুভব করেছেন।

কিন্তু আজকের একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের চিত্র ভিন্ন। লেখকের মতে, বর্তমানে এই দিনে যে হৈ-হুল্লোড়, পদক অর্জনের প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে যুব-যুবতীদের মেলামেশা দেখা যায়, তা সেই সময়ের আন্তরিক, ভাবগম্ভীর ও শোকাহত হৃদয়ের বেদনা এবং অধিকার আদায় ও রক্ষার প্রত্যয় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময়ের ঐতিহ্যবাহী একুশে ফেব্রুয়ারি যেন আজ হারিয়ে গেছে, যা জাতির স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের স্বার্থেই পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন।

জাতির মহত্ত্বের উৎস এবং ভিত্তি হলো তার বিবর্তনশীল সুদীর্ঘ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে জাতি মহাসমুদ্রের ঝোড়ো বাতাসে নোঙরহীন জাহাজের মতো দিশেহারা হয়ে পড়বে। লেখক পলাশীর যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে বলেন, ঠিক যেমন সে সময় জাতি তামাশা দেখে হাততালি দিচ্ছিল, আর নিজেদের ভাগ্যসূর্য দীর্ঘ দুই শতাব্দীর জন্য নিভে যাচ্ছিল, ঠিক তেমনি আজ বাংলা জাতি অপসংস্কৃতির খেলায় বিভোর হয়ে তার ঐতিহ্য বিস্মৃত হচ্ছে।

দেশের সকল ঐতিহ্যবাহী পার্বণ, যা জাতির অবচেতনায় স্মৃতির গভীরে প্রোথিত থেকে মূল্যবোধ দ্বারা চালিত হতে শক্তি যোগায়, তা আজ অবহেলিত, বিস্মৃত বা বিকৃত হয়ে পড়ছে। নববর্ষ, ঈদ, মহররম, শবে বরাত, এমনকি মাতৃভাষা দিবসও এই পরিবর্তনের শিকার। জাতি হিসেবে হারানো স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার জন্য যে জাতীয় চেতনা প্রয়োজন, তার অবচেতনায় বিধৃত শেকড়রূপ, ব্যাপকতর জাতীয় সংস্কৃতির অন্যান্য বিষয়ের মতো, এই হারানো—বা হারাতে বসা—জাতীয় পার্বণগুলোর মূল মূল্যবোধগত রূপ ও আদি রূপসহ পুনরুজ্জীবন এবং ধরে রাখা অতীব আবশ্যক।

মাতৃভাষা বাংলা ভাষার সরকারি ভাষারূপে স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মরণে পালিত হয় এই দিনটি। বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, আসামের বরাক উপত্যকা ও ত্রিপুরাতেও এটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু লেখক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর থেকে এই পার্বণ উদযাপনে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন এসেছে এবং তা তার মূল থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। হারিয়ে যাচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের মূল রূপ, তার উৎস ও ভিত্তি যে মূল্যবোধ, তা এবং তার মূল চেতনা।

লেখক উল্লেখ করেন যে, সব পার্বণই মূলত ধর্ম থেকে উৎসারিত হয়ে থাকে এবং কালক্রমে পরিবর্তিত হলেও সাধারণত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের রূপেই থেকে যায়। তবে কিছু পার্বণ, যেমন ফরাসি বিপ্লব-পরবর্তী আধুনিক বিশ্বে উদ্ভূত কিছু পার্বণ, যা সরাসরি ধর্ম থেকে উৎসারিত নয়, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সেরকমই একটি পার্বণ। কিন্তু চূড়ান্ত উৎসবিচারে, এসব ধর্মনিরপেক্ষ পার্বণও পরোক্ষভাবে ধর্ম থেকেই উৎসারিত।

‘একুশ’ মূলত বহু শতাব্দীর বিবর্তনের ভেতর দিয়ে বাংলা জাতির প্রধান ধর্ম ইসলামের একটি মৌলিক মূল্যবোধ—’ইনসাফ’, তথা ‘ন্যায্য অধিকার’-এর বিশ্বাস ও চেতনা থেকে উৎসারিত। ইসলামে ‘ইনসাফ’ এবং সাম্য বা সমতা (Justice & Equality) একটি মৌলিক চেতনাগত ভিত্তি। এই মূল্যবোধ থেকেই বাঙালিরা তাদের অধিকারবঞ্চিত মাতৃভাষার অধিকার উদ্ধারে জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয়।

লেখক আরও বলেন যে, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার বিশেষ দান এবং মানুষের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোরআন শরিফে ভাষাকে মানুষের সৃষ্টি এবং সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, বাংলা ভাষাসহ সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা বাঙালির একটি হাজার বছরের ঐতিহ্য ও ধর্মভিত্তিক দায়িত্ব। অবচেতনায় সক্রিয় সেই চেতনা থেকেই বাংলাদেশের মানুষ বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকারের জন্য দরকারে প্রাণ উৎসর্গ করে, যার নজির অন্য কোথাও বিরল।

পরিশেষে, লেখক জোর দিয়ে বলেন যে, প্রত্যেকটি পার্বণকেই তার সমাজের সামগ্রিক অবচেতনায় সক্রিয় মূল্যবোধের আলোকে দেখতে হবে। ঐতিহ্য বিশ্লেষণ করতে পারলে জাতির পার্বণসমূহ প্রতীকী ভাষায় জাতির অবচেতনার চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং তা জাতির সংস্কৃতির চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী সম্পদ হিসেবে বেঁচে থাকে। নতুবা তা খোলসসর্বস্ব অপসংস্কৃতিক প্রহসনে পর্যবসিত হয়। লেখক আশা প্রকাশ করেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী একুশে ফেব্রুয়ারি তার মূল উৎসের আলোকে ভাস্বর, স্মৃতিময় আলোর মিনার হয়ে চিরায়ত হোক।