ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভোটের সমীকরণ: নেপথ্যে কি কেবলই ধর্মীয় আবেগ নাকি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন আসনে ইসলামপন্থি দলগুলোর উল্লেখযোগ্য ভোটপ্রাপ্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে এক শ্রেণির তথাকথিত প্রগতিশীল গোষ্ঠী এই জনমতকে কেবল ‘অনগ্রসরতা’ বা ‘ধর্মীয় গোঁড়ামি’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষকে নিয়ে উপহাস করতেও ছাড়ছেন না অনেকে। তবে গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এই অঞ্চলের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের পেছনে কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বৈরী আচরণ এবং জীবন-মরণের লড়াই এক বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিশাল একটি অংশ দীর্ঘকাল ধরে সীমান্ত হত্যা এবং পানি আগ্রাসনের শিকার। বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে দেখা দেয় তীব্র খরা ও মরুপ্রক্রিয়া, আবার বর্ষা মৌসুমে বাঁধের সব কটি কপাট খুলে দেওয়ায় ভাসতে হয় ভয়াবহ বন্যায়। কৃষিনির্ভর এই জনপদগুলোর মানুষের কাছে তিস্তা ও ফারাক্কার পানি বণ্টন সমস্যা কেবল রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের এক ধরনের বিরাগ তৈরি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ বাংলাদেশিদের নিয়মিত হত্যা এবং অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই ভোটাররা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকেছেন। সমালোচকরা বিষয়টিকে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ হিসেবে রং দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা একে দেখছেন জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে।

মূলত, যারা এই অঞ্চলের ভোটারদের বিচার-বুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবন-সংগ্রাম ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী নীতির প্রভাবকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের এই রায় আসলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং সীমান্ত ও পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ। একে কেবল ধর্মের চশমায় দেখা হবে একপাক্ষিক ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভোটের সমীকরণ: নেপথ্যে কি কেবলই ধর্মীয় আবেগ নাকি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ?

আপডেট সময় : ১১:১৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন আসনে ইসলামপন্থি দলগুলোর উল্লেখযোগ্য ভোটপ্রাপ্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে এক শ্রেণির তথাকথিত প্রগতিশীল গোষ্ঠী এই জনমতকে কেবল ‘অনগ্রসরতা’ বা ‘ধর্মীয় গোঁড়ামি’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষকে নিয়ে উপহাস করতেও ছাড়ছেন না অনেকে। তবে গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এই অঞ্চলের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের পেছনে কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বৈরী আচরণ এবং জীবন-মরণের লড়াই এক বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিশাল একটি অংশ দীর্ঘকাল ধরে সীমান্ত হত্যা এবং পানি আগ্রাসনের শিকার। বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে দেখা দেয় তীব্র খরা ও মরুপ্রক্রিয়া, আবার বর্ষা মৌসুমে বাঁধের সব কটি কপাট খুলে দেওয়ায় ভাসতে হয় ভয়াবহ বন্যায়। কৃষিনির্ভর এই জনপদগুলোর মানুষের কাছে তিস্তা ও ফারাক্কার পানি বণ্টন সমস্যা কেবল রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের এক ধরনের বিরাগ তৈরি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ বাংলাদেশিদের নিয়মিত হত্যা এবং অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই ভোটাররা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকেছেন। সমালোচকরা বিষয়টিকে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ হিসেবে রং দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়রা একে দেখছেন জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে।

মূলত, যারা এই অঞ্চলের ভোটারদের বিচার-বুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবন-সংগ্রাম ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী নীতির প্রভাবকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের এই রায় আসলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং সীমান্ত ও পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ। একে কেবল ধর্মের চশমায় দেখা হবে একপাক্ষিক ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।