দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় নির্বাসিত থাকার পর এক পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। গত ২৫ ডিসেম্বর তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে যে জল্পনা-কল্পনার শুরু হয়েছিল, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে তার পূর্ণতা পেয়েছে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই ফেরা এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ বাঁক বদল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা প্রায়ই জনসভায় তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর মন্তব্য করতেন। ‘সাহস থাকলে দেশে আয়’—এমন দম্ভোক্তি ছিল তৎকালীন সরকারপ্রধানের নিয়মিত রাজনৈতিক ভাষা। সেই সময়কার প্রতিকূল পরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের কারণে তারেক রহমানের পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব না হলেও, সময়ের ব্যবধানে সেই প্রেক্ষাপট আজ সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার সেই দম্ভোক্তি এবং ক্ষমতার দাপুটে ভাষাই শেষ পর্যন্ত তার রাজনীতির পতনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান বাস্তবতায় শেখ হাসিনা দেশের রাজনীতিতে কেবল অপ্রাসঙ্গিকই হয়ে পড়েননি, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটেছে বলেও মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। এমনকি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অস্তিত্বও এখন গভীর সংকটের মুখে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারপ্রধানের বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা রাষ্ট্রের নীতি ও অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাহী বিভাগের সর্বোচ্চ আসনে বসে যখন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কটু কথা বা বিদ্রূপ করা হয়, তখন তা আর সুস্থ রাজনীতির চর্চা থাকে না। সেটি শাসনব্যবস্থা, আইন ও সংবিধানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিগত আওয়ামী শাসনামলে তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার ধারাবাহিক নেতিবাচক মন্তব্যগুলো ছিল ক্ষমতার অপপ্রয়োগের এক প্রকট উদাহরণ। সরকারপক্ষ থেকে সে সময় এসব বক্তব্যকে আইনের শাসনের দোহাই দিয়ে জায়েজ করার চেষ্টা করা হলেও, জনসাধারণের কাছে তা ছিল মূলত প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপকৌশল। অবশেষে ‘সময়ই শ্রেষ্ঠ বিচারক’—এই প্রবাদকে সত্য প্রমাণ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ ঘটেছে, যেখানে দম্ভের বিপরীতে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























