ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তড়িঘড়ি গেজেট: ত্রয়োদশ নির্বাচন নিয়ে সুজনের গুরুতর প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করায় এর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংস্থাটি বলছে, ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক ও অযোগ্য প্রার্থীদের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের সুরাহা না করেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এসব মন্তব্য করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করা এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা। সুজনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোটের মন্ত্রিসভার শপথ বর্জন রাজনীতিতে নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং ভোট গণনা নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগের সুরাহা না করেই তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪৭ জনই ঋণগ্রহীতা, যা মোট নির্বাচিতদের প্রায় ৫০ শতাংশ। এদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন। এছাড়া, সুজন জানিয়েছে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে ১২৬ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। পূর্ববর্তী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা সংসদ সদস্যের হার বেড়েছে। দ্বাদশ সংসদে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ, যা এবার প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার জোর দিয়ে বলেন, অযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিলে ফলাফলের সমীকরণ পাল্টে যায় এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ফলাফল বাতিল বা নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু এই ত্রয়োদশ নির্বাচনে এমন প্রশ্ন উঠলেও কমিশন কোনো তদন্ত না করে গভীর রাতে তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল, যাদের অনেকে আদালতের ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। একইভাবে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেকে প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই দ্বৈত নাগরিক হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। সুজন সম্পাদক জানান, এসব বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই গেজেট প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। এমনকি নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা ‘সার্টিফাই’ করারও সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেনি।

তবে, ড. মজুমদার মনে করেন, এখনো সুযোগ আছে। তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর ৯১ ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, হলফনামা নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে গেজেট প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিলও করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আরপিও অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়া হয়, তবে মনোনয়নপত্র সম্পূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এমন অসম্পূর্ণ মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া উচিত কি না, সে বিষয়েও এখন প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আশকোনা সড়কের জলাবদ্ধতা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরসনের নির্দেশ ডিএনসিসি প্রশাসকের

তড়িঘড়ি গেজেট: ত্রয়োদশ নির্বাচন নিয়ে সুজনের গুরুতর প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করায় এর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংস্থাটি বলছে, ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক ও অযোগ্য প্রার্থীদের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের সুরাহা না করেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এসব মন্তব্য করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করা এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা। সুজনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোটের মন্ত্রিসভার শপথ বর্জন রাজনীতিতে নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং ভোট গণনা নিয়ে প্রার্থীদের অভিযোগের সুরাহা না করেই তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪৭ জনই ঋণগ্রহীতা, যা মোট নির্বাচিতদের প্রায় ৫০ শতাংশ। এদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন। এছাড়া, সুজন জানিয়েছে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে ১২৬ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। পূর্ববর্তী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা সংসদ সদস্যের হার বেড়েছে। দ্বাদশ সংসদে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ, যা এবার প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার জোর দিয়ে বলেন, অযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিলে ফলাফলের সমীকরণ পাল্টে যায় এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ফলাফল বাতিল বা নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু এই ত্রয়োদশ নির্বাচনে এমন প্রশ্ন উঠলেও কমিশন কোনো তদন্ত না করে গভীর রাতে তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল, যাদের অনেকে আদালতের ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। একইভাবে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেকে প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই দ্বৈত নাগরিক হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। সুজন সম্পাদক জানান, এসব বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই গেজেট প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। এমনকি নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা ‘সার্টিফাই’ করারও সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেনি।

তবে, ড. মজুমদার মনে করেন, এখনো সুযোগ আছে। তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর ৯১ ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, হলফনামা নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে গেজেট প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিলও করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আরপিও অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়া হয়, তবে মনোনয়নপত্র সম্পূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এমন অসম্পূর্ণ মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া উচিত কি না, সে বিষয়েও এখন প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।