ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টিতে থমকে আছে বোরো ধান সংগ্রহ, বন্যার শঙ্কায় কৃষক

টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মৌলভীবাজারে বোরো ধান সংগ্রহের সরকারি কার্যক্রম শুরুতেই বাধার মুখে পড়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে ও শুকাতে পারছেন না, যার ফলে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে জেলা খাদ্য বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে যে, সংগ্রহের জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শেষ পর্যন্ত অর্জন করা সম্ভব হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আকস্মিক পাহাড়ী ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ৫ হাজার ৪২ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যায়, যার মধ্যে ২ হাজার ২৮২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট এবং অতিরিক্ত পানির কারণে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার অনুপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় কৃষকরা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন।

জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর জেলা থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৬ হাজার ৪ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সদর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বড়লেখা, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকদের কাছ থেকে এই ধান কেনা হবে। কৃষকদের সুবিধার্থে জেলা সদরের গিয়াসনগরে ধান শুকানোর বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে ধান শুকিয়ে গুদামে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সাথে মনু, কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ি নদীর পানি বাড়তে থাকায় অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টিতে থমকে আছে বোরো ধান সংগ্রহ, বন্যার শঙ্কায় কৃষক

মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টিতে থমকে আছে বোরো ধান সংগ্রহ, বন্যার শঙ্কায় কৃষক

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মৌলভীবাজারে বোরো ধান সংগ্রহের সরকারি কার্যক্রম শুরুতেই বাধার মুখে পড়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে ও শুকাতে পারছেন না, যার ফলে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে জেলা খাদ্য বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে যে, সংগ্রহের জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শেষ পর্যন্ত অর্জন করা সম্ভব হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আকস্মিক পাহাড়ী ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ৫ হাজার ৪২ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যায়, যার মধ্যে ২ হাজার ২৮২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট এবং অতিরিক্ত পানির কারণে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার অনুপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় কৃষকরা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন।

জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর জেলা থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ৬ হাজার ৪ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সদর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বড়লেখা, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকদের কাছ থেকে এই ধান কেনা হবে। কৃষকদের সুবিধার্থে জেলা সদরের গিয়াসনগরে ধান শুকানোর বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে ধান শুকিয়ে গুদামে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সাথে মনু, কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ি নদীর পানি বাড়তে থাকায় অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।