ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষাকে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষাকে আর খরচের খাত হিসেবে দেখবে না সরকার, বরং এটিকে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, মানবসম্পদের মূল কারখানা এবং জাতি-গঠনের প্রধান প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একইসঙ্গে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়ার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশ এবং জিডিপির দেড়-দুই শতাংশের আশেপাশে ছিল, যা একটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। তবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে জিডিপির চার থেকে ছয় শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন। এই লক্ষ্য অর্জনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি মাঝারি মেয়াদের বাজেট কাঠামো অনুযায়ী তিন বছরের ‘ফিসক্যাল আপলিফট প্ল্যান’ তৈরি করা হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ জোর দিয়ে বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, খরচের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ বছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে খরচ করা হয়, যার ফলে বই বিতরণ, নির্মাণকাজ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্কুল ক্যালেন্ডারকে অনুসরণ করতে পারে না। গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে ফেরত গেছে, যা কেবল অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়, শিক্ষার্থীদের সময় ও সুযোগের অপচয়।

এই সমস্যা সমাধানে প্রতিমন্ত্রী বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানান। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন এবং প্রকল্প গেট-কিপিং প্রক্রিয়া স্কুল বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। অর্থ বিভাগের ক্যাশ রিলিজ সমান কিস্তি না করে মাইলস্টোন-ভিত্তিক করা হবে, যেখানে পাঠ্যপুস্তক, প্রশিক্ষণ ও নির্মাণ কাজের জন্য আলাদা মাইলস্টোন থাকবে। ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে আগেভাগে চালু করে প্রি-প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানিং করা হবে, যাতে অর্থবছরের শেষ দিকে দরপত্রের ভিড় এড়ানো যায়। হিসাবের শেষ গন্তব্য হবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ঘণ্টা, অর্থাৎ প্রতিটি খরচের প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা হবে।

উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি ব্যয় স্কুলকে সচল রাখলেও উন্নয়ন ব্যয় স্কুলকে আধুনিক করে তোলে। সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা; বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, ভাষা ল্যাব, ডিজিটাল কনটেন্ট ও মূল্যায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্কুল অবকাঠামো, বিশেষ করে পানি, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তার উন্নয়ন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মিড-ডে মিল, পরিষ্কার টয়লেট এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে, যা নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ অঙ্গীকার প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, এটিকে নিছক একটি গ্যাজেট প্রকল্প না বানিয়ে শিক্ষণ-শেখার একটি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে স্কুলপর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতনতা এবং সাইবার সেফটি—এই তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক সক্ষমতা হিসেবে নিয়ে আসা হবে। শিক্ষক ট্যাবের ভেতরে পাঠ-পরিকল্পনার টেমপ্লেট, প্রশ্নব্যাংক, উপস্থিতি এবং শিখন-প্রমাণ (লার্নিং এভিডেন্স) আপলোড করার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শিখন প্রক্রিয়া ট্র্যাক করা যায়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে, কারণ শিক্ষক, কনটেন্ট ও মূল্যায়নের প্রস্তুতি প্রয়োজন। শ্রমবাজার এবং উচ্চশিক্ষার চাহিদা বিবেচনা করে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে এবং ভাষা শিক্ষায় শোনা ও বলাকে (লিসেনিং-স্পিকিং) গুরুত্ব দেওয়া হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রতিটি বিষয়ে লার্নিং ট্রাজেক্টরি ও গ্রেড-টু-গ্রেড কনসেপ্ট ম্যাপ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে ওয়ার্কড এক্সাম্পল, প্র্যাকটিস সেট ও রিভিশন ক্যালেন্ডার যুক্ত করা হবে। বোর্ড পরীক্ষায় ধাপে ধাপে আইটেম ব্যাংক, ব্লুপ্রিন্ট, মডারেশন এবং স্কুল-ভিত্তিক মূল্যায়নের গার্ডরেইল যুক্ত করা হবে। এর মূল লক্ষ্য একটাই—শিখন-ফলাফল নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার বলেছেন— ‘সার্টিফিকেট নয়, সক্ষমতা’। আমরা সেই সক্ষমতাকে পরীক্ষায় আনব।

সবশেষে ববি হাজ্জাজ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা সাংবাদিকদের সামনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না; শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়ব।” তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দক্ষ, ন্যায়ভিত্তিক, প্রযুক্তিসক্ষম ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, তা গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো শিক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হিসেবে তাদের দায়িত্ব সেই ভিশনকে বাজেট, শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেওয়া।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আশকোনা সড়কের জলাবদ্ধতা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরসনের নির্দেশ ডিএনসিসি প্রশাসকের

শিক্ষাকে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষাকে আর খরচের খাত হিসেবে দেখবে না সরকার, বরং এটিকে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, মানবসম্পদের মূল কারখানা এবং জাতি-গঠনের প্রধান প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একইসঙ্গে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়ার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশ এবং জিডিপির দেড়-দুই শতাংশের আশেপাশে ছিল, যা একটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। তবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে জিডিপির চার থেকে ছয় শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন। এই লক্ষ্য অর্জনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি মাঝারি মেয়াদের বাজেট কাঠামো অনুযায়ী তিন বছরের ‘ফিসক্যাল আপলিফট প্ল্যান’ তৈরি করা হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ জোর দিয়ে বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, খরচের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ বছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে খরচ করা হয়, যার ফলে বই বিতরণ, নির্মাণকাজ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্কুল ক্যালেন্ডারকে অনুসরণ করতে পারে না। গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে ফেরত গেছে, যা কেবল অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়, শিক্ষার্থীদের সময় ও সুযোগের অপচয়।

এই সমস্যা সমাধানে প্রতিমন্ত্রী বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানান। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন এবং প্রকল্প গেট-কিপিং প্রক্রিয়া স্কুল বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। অর্থ বিভাগের ক্যাশ রিলিজ সমান কিস্তি না করে মাইলস্টোন-ভিত্তিক করা হবে, যেখানে পাঠ্যপুস্তক, প্রশিক্ষণ ও নির্মাণ কাজের জন্য আলাদা মাইলস্টোন থাকবে। ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে আগেভাগে চালু করে প্রি-প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানিং করা হবে, যাতে অর্থবছরের শেষ দিকে দরপত্রের ভিড় এড়ানো যায়। হিসাবের শেষ গন্তব্য হবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ঘণ্টা, অর্থাৎ প্রতিটি খরচের প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা হবে।

উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি ব্যয় স্কুলকে সচল রাখলেও উন্নয়ন ব্যয় স্কুলকে আধুনিক করে তোলে। সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা; বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, ভাষা ল্যাব, ডিজিটাল কনটেন্ট ও মূল্যায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্কুল অবকাঠামো, বিশেষ করে পানি, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তার উন্নয়ন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মিড-ডে মিল, পরিষ্কার টয়লেট এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে, যা নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ অঙ্গীকার প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, এটিকে নিছক একটি গ্যাজেট প্রকল্প না বানিয়ে শিক্ষণ-শেখার একটি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে স্কুলপর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতনতা এবং সাইবার সেফটি—এই তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক সক্ষমতা হিসেবে নিয়ে আসা হবে। শিক্ষক ট্যাবের ভেতরে পাঠ-পরিকল্পনার টেমপ্লেট, প্রশ্নব্যাংক, উপস্থিতি এবং শিখন-প্রমাণ (লার্নিং এভিডেন্স) আপলোড করার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শিখন প্রক্রিয়া ট্র্যাক করা যায়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে, কারণ শিক্ষক, কনটেন্ট ও মূল্যায়নের প্রস্তুতি প্রয়োজন। শ্রমবাজার এবং উচ্চশিক্ষার চাহিদা বিবেচনা করে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে এবং ভাষা শিক্ষায় শোনা ও বলাকে (লিসেনিং-স্পিকিং) গুরুত্ব দেওয়া হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রতিটি বিষয়ে লার্নিং ট্রাজেক্টরি ও গ্রেড-টু-গ্রেড কনসেপ্ট ম্যাপ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে ওয়ার্কড এক্সাম্পল, প্র্যাকটিস সেট ও রিভিশন ক্যালেন্ডার যুক্ত করা হবে। বোর্ড পরীক্ষায় ধাপে ধাপে আইটেম ব্যাংক, ব্লুপ্রিন্ট, মডারেশন এবং স্কুল-ভিত্তিক মূল্যায়নের গার্ডরেইল যুক্ত করা হবে। এর মূল লক্ষ্য একটাই—শিখন-ফলাফল নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার বলেছেন— ‘সার্টিফিকেট নয়, সক্ষমতা’। আমরা সেই সক্ষমতাকে পরীক্ষায় আনব।

সবশেষে ববি হাজ্জাজ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা সাংবাদিকদের সামনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না; শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়ব।” তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দক্ষ, ন্যায়ভিত্তিক, প্রযুক্তিসক্ষম ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, তা গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো শিক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হিসেবে তাদের দায়িত্ব সেই ভিশনকে বাজেট, শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেওয়া।