ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাকরিচ্যুতিতে ‘মব’ নয়, বিধিবিধানই শেষ কথা: তথ্যমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক চাকরিচ্যুতির ঘটনা প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘মব’ বা জনরোষের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সব ক্ষেত্রে বিধিবিধানই শেষ কথা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানান, সরকার একটি প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর এবং সাংবিধানিক পদ্ধতির বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই আমরা বিধিবিধান মেনে চলতে সচেষ্ট থাকব। বিধিবিধানের বাইরে কোনো কিছুই বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) থেকে একজন সম্পাদককে ‘মব’ করে বের করে দেওয়া এবং বেসরকারি টেলিভিশন এখন টিভি থেকে চার-পাঁচজন রিপোর্টারের চাকরিচ্যুতির ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমি নিজেও গতকাল সন্ধ্যার দিকে ঘটনাটা শুনেছি এবং এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা যেহেতু একটি সরকারি সংস্থা, এখানে নিয়োগ এবং নিয়োগ বহাল অথবা বাতিল— এই সবকিছুরই কিন্তু একটি বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। অবশ্যই সরকার সবকিছু বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যেই বিবেচনা করবে। ঘটে যাওয়া যে দুঃখজনক ঘটনা, সেটারও আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে আমরা বিধিবিধান অনুযায়ী সমাধান বের করব।”

এখন টিভির সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়টিও তিনি কেবল শুনেছেন। তিনি বলেন, “এখন টিভির মালিকপক্ষ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা একটু ভালো করে বুঝে সমঝোতার মধ্যে সমাধান করা যায় কি না, দেখব।”

এসব ঘটনা বিধিবদ্ধ নিয়মে হয়নি— এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করছি না। কিন্তু যেকোনো ঘটনাকে নিষ্পত্তি করব বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে। কেউ মনে করার কারণ নেই যে মব করলেই সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আমরা বারবারই বলছি, একটি প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “অবশ্যই আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। আপনারা দেখেছেন, জাতীয় সংসদে শপথ অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিষয়েও আমরা কিন্তু কখনোই সংবিধান নির্দেশিত কথার বাইরে যাইনি। অতএব, দেশ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান যেখানেই যাই না কেন, আমরা চেষ্টা করব সব সময় বিধিবিধানের মধ্যে যেতে। বিধিবিধানের বাইরে আমরা কোনো কিছুকেই বাস্তবায়ন করতে দেব না।”

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যদি ব্যক্তিগত কোনো প্রতিষ্ঠান কাকে চাকরি দেবে, কাকে চাকরি দেবে না, কার চাকরি তারা রাখবেন বা রাখবেন না— এটা সম্পূর্ণই তাদের ব্যাপার। তবে কোনো সাংবাদিক যখন সংক্ষুব্ধ হবেন, তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি চেষ্টা করব ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তাদের অধিকার সংরক্ষণ করে— এগুলো হচ্ছে কি না, সেটার সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আমার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে নিজ বাড়িতে স্কুলশিক্ষিকাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা

চাকরিচ্যুতিতে ‘মব’ নয়, বিধিবিধানই শেষ কথা: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক চাকরিচ্যুতির ঘটনা প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘মব’ বা জনরোষের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সব ক্ষেত্রে বিধিবিধানই শেষ কথা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানান, সরকার একটি প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর এবং সাংবিধানিক পদ্ধতির বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই আমরা বিধিবিধান মেনে চলতে সচেষ্ট থাকব। বিধিবিধানের বাইরে কোনো কিছুই বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) থেকে একজন সম্পাদককে ‘মব’ করে বের করে দেওয়া এবং বেসরকারি টেলিভিশন এখন টিভি থেকে চার-পাঁচজন রিপোর্টারের চাকরিচ্যুতির ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমি নিজেও গতকাল সন্ধ্যার দিকে ঘটনাটা শুনেছি এবং এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা যেহেতু একটি সরকারি সংস্থা, এখানে নিয়োগ এবং নিয়োগ বহাল অথবা বাতিল— এই সবকিছুরই কিন্তু একটি বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। অবশ্যই সরকার সবকিছু বিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যেই বিবেচনা করবে। ঘটে যাওয়া যে দুঃখজনক ঘটনা, সেটারও আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে আমরা বিধিবিধান অনুযায়ী সমাধান বের করব।”

এখন টিভির সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়টিও তিনি কেবল শুনেছেন। তিনি বলেন, “এখন টিভির মালিকপক্ষ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা একটু ভালো করে বুঝে সমঝোতার মধ্যে সমাধান করা যায় কি না, দেখব।”

এসব ঘটনা বিধিবদ্ধ নিয়মে হয়নি— এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করছি না। কিন্তু যেকোনো ঘটনাকে নিষ্পত্তি করব বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে। কেউ মনে করার কারণ নেই যে মব করলেই সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আমরা বারবারই বলছি, একটি প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “অবশ্যই আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। আপনারা দেখেছেন, জাতীয় সংসদে শপথ অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিষয়েও আমরা কিন্তু কখনোই সংবিধান নির্দেশিত কথার বাইরে যাইনি। অতএব, দেশ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান যেখানেই যাই না কেন, আমরা চেষ্টা করব সব সময় বিধিবিধানের মধ্যে যেতে। বিধিবিধানের বাইরে আমরা কোনো কিছুকেই বাস্তবায়ন করতে দেব না।”

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যদি ব্যক্তিগত কোনো প্রতিষ্ঠান কাকে চাকরি দেবে, কাকে চাকরি দেবে না, কার চাকরি তারা রাখবেন বা রাখবেন না— এটা সম্পূর্ণই তাদের ব্যাপার। তবে কোনো সাংবাদিক যখন সংক্ষুব্ধ হবেন, তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি চেষ্টা করব ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তাদের অধিকার সংরক্ষণ করে— এগুলো হচ্ছে কি না, সেটার সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আমার।