গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজয়ী নারীদের মধ্যে থেকে তিনজন জায়গা করে নিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভায়। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ সংসদে নারী সংসদ সদস্যের মোট সংখ্যা হবে ৫৭ জন, যা মোট সদস্যের ১৬ শতাংশ।
মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া তিন নারী হলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত আফরোজা খানম রিতা, যিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ ইসলাম পেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। এছাড়া মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাটোর-১ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফারজানা শারমিন পুতুল।
২৯৯টি আসনে মোট ৮৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজন সরাসরি নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছেন। এর আগে ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনেও সমসংখ্যক নারী প্রার্থী জয়লাভ করেছিলেন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত অন্য নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ঝালকাঠি-২ আসনের ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনের তাহসিনা রুশদীর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা এবং ফরিদপুর-৩ আসনের নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের এই হার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিজয়ী নারী সংসদ সদস্যদের একজন তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সমাজে নারীদের প্রায়শই দুর্বল ও বৈষম্যের চোখে দেখা হয়। তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদে তিনি এই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন এবং সমাজের যে অংশ এখনো তাদের মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, তাদের কাছে প্রমাণ করতে চান যে নারীরা পুরুষদের চেয়েও বেশি কাজ করতে সক্ষম। নারীর প্রতি বৈষম্য ও অপপ্রচারের কারণেই নারীরা বেশি সংখ্যায় জয়ী হতে পারেননি বলেও তিনি মনে করেন।
নির্বাচনে নারীর কম ভোট পাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার বলেন, এবারের নির্বাচনের আগে থেকেই নারীবিদ্বেষী প্রচার ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি মনে করেন, আরও বেশি সংখ্যক নারীকে মনোনয়ন দেওয়া, নারীবিদ্বেষী প্রচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা এবং নারীদের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তাদের নির্বাচিত হওয়ার হার বাড়বে।
নারী অধিকারকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, এবার জুলাই আন্দোলন ঘিরে নারীদের মনোনয়ন দেওয়ার হার বাড়বে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নারীদের কম মনোনয়ন দেওয়ার প্রবণতা আগের মতোই দেখা গেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো পাঁচ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে একমত হলেও সেই অঙ্গীকার পূরণ করেনি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৪ জন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র চার শতাংশ। এদের মধ্যে ৬৬ জন দলীয় প্রতীকে এবং ১৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া একজন হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রার্থীও ছিলেন।
ইসি-তে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চশিক্ষিত। প্রায় ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৪ জন নারী প্রার্থীই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বয়স বিবেচনায় ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি, ৩২ জন। পেশাগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৬৭ শতাংশ নারীই কর্মজীবী।
রিপোর্টারের নাম 























